২০১১ সালের নভেম্বর মাসে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সরকারের একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তিনি তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভোটাধিকার হরণের প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সেই সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধান থেকে একতরফা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “গণবিচ্ছিন্ন সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়” এবং এই পদক্ষেপকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
খালেদা জিয়া জানান, জনগণ সরকারের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং দুর্নীতি, দুঃশাসন ও জুলুম-নির্যাতনের মোকাবেলায় রায় দিতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন দেশের দরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যাতে ভোটাররা স্বেচ্ছায় তাদের পছন্দের দলকে সমর্থন করতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের অবাধ নির্বাচন ও সব দলের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাবের পর, খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে সংলাপের আহ্বান সরকারকে পালন করতে হবে, বিরোধী দলকে নয়। তিনি বলেন, “সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার দায়িত্ব সরকারের, বিরোধী দলের নয়”।
সরকার যদি এই আহ্বান মানতে ব্যর্থ হয়, তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দেন, “আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, তাদের সমর্থনই আমাদের শক্তি। জনগণই আমাদের দাবির স্বয়ংক্রিয় সমর্থন দেবে এবং শেষ পর্যন্ত দাবি আদায় করবে”।
সাক্ষাৎকারের সময় গুলশানের দোতলার অফিসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উজ্জ্বল হাসি ও অফ-হোয়াইট শাড়ি পরিহিত অবস্থায় স্বাগত জানান। কুশল বিনিময়ের পর তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
খালেদা জিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোডমার্চের দাবি বাড়ছে এবং এই কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোডমার্চের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে, যদিও কিছু জেলায় শারীরিকভাবে রোডমার্চ করা সম্ভব না হলে জনসভা আয়োজন করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোডমার্চের মূল লক্ষ্য হল জনগণের মতামত সংগ্রহ করা এবং তাদের চাহিদা সরকারকে পৌঁছে দেওয়া। এই প্রচারণা চালিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটের সময় নাগরিকরা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন হিসেবে তার এই অবস্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও বিরোধী দলের ঐক্যের সূচক হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে আমরা জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব”।
এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী দিনগুলোতে বিরোধী দলগুলো রোডমার্চ ও জনসভার মাধ্যমে চাপ বাড়িয়ে চলেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে তীব্রতর করেছে। খালেদা জিয়ার দাবি অনুযায়ী, যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত না হয়, তবে বিরোধী দলগুলো আইনি ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করে দাবি পূরণে অগ্রসর হবে।
সামগ্রিকভাবে, ২০১১ সালের নভেম্বরের এই সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া সরকারের একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং জনগণের সমর্থনকে তার রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রতিপক্ষের কৌশল নির্ধারণে।



