সারাদেশে ভোটের পূর্ণ দিন শেষ হয়ে, রাতের অন্ধকারে টেলিভিশন ও রেডিওতে একটাই ঘোষণার অপেক্ষা ছিল। শেষমেশ জানানো হয়, খালেদা জিয়া নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করেছে।
এই ফলাফলকে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বলে দেখেছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও খালেদা জিয়ার বিএনপি—দুই দলই দশ বছরব্যাপী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল, যা সাম্প্রতিক মাসে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পদত্যাগের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
বিএনপি, যা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছিল, তার প্রতিষ্ঠাতা এক সময় সামরিক শক্তি থেকে রাষ্ট্রপতি হন। তাই বহু বিশ্লেষক মনে করতেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর এই দলকে জনগণ পুনরায় ক্ষমতায় আস্থা দেবে না, বিশেষ করে খালেদা জিয়া মাত্র সাত বছর আগে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার স্বতন্ত্র নেতৃত্বের মূল কারণ ছিল তার অটল অবস্থান। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করে স্বৈরাচারবিরোধী রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যা তাকে স্বল্পমেয়াদী বিরোধী থেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে।
রাজনীতিতে প্রবেশ করা অনেকেই কেবল সময়ের স্রোতে ভেসে যায়, তবে খালেদা জিয়া উভয়ই প্রতীক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। ক্ষমতা হারানোর পরও তিনি দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
সাধারণ পরিবারের সন্তান থেকে দেশের শীর্ষে ওঠা, পরবর্তীতে জেলখানা, রোগ ও বহুবার মুক্তি পাওয়ার পরেও তিনি পুনরায় জনমতকে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন; এ সবই তাকে পার্টি ও জাতির সীমা অতিক্রম করে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
যদিও ভবিষ্যতে তিনি সরাসরি শাসনকেন্দ্রের পথে না আসলেও, তার ছায়া বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি কোণায় দৃশ্যমান থাকবে। তিনি সংগ্রামের প্রতীক, যিনি কখনো আপস করেননি, কখনো নত হননি।
সমালোচনার মুখে থেকেও তার নীতিমালা ও সিদ্ধান্তগুলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অমোচনীয় চিহ্ন রেখে গেছে।
বিএনপি তার নেতৃত্বে একটি সামরিক-ভিত্তিক দল থেকে একটি বিস্তৃত জনমতভিত্তিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করেছে।
অগ্রসর হওয়া রাজনৈতিক পরিবেশে, বিএনপি এখনো শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে অবস্থান বজায় রাখবে, সম্ভাব্য জোট গঠন, নীতি নির্ধারণে প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



