দিল্লি হাই কোর্ট সম্প্রতি জে.আর. এনটিআরের নাম, ছবি ও সাদৃশ্যের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধের জন্য একটি সুরক্ষা আদেশ জারি করেছে। অভিনেতা, যিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ নায়ক, সামাজিক মাধ্যম ও ই‑কমার্স সাইটে তার পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে আদালতে আবেদন করেন। এই আবেদনটি ডিজিটাল যুগে তার সুনাম ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়।
অভিনেতা উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার নাম ও চেহারা ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন ও প্রচার করা হচ্ছে, যা তার অনুমতি ছাড়া। এ ধরনের অননুমোদিত ব্যবহার শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক ও পরিবর্তিত ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
দিল্লি হাই কোর্ট এই বিষয়টি ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়েট গাইডলাইনস ও ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) নিয়মের অধীনে বিবেচনা করে। আদালত উল্লেখ করেন যে, ইন্টারমিডিয়েটগুলোকে বৈধ অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট মুছে ফেলা, নিষ্ক্রিয় করা অথবা প্রবেশাধিকার সীমিত করার দায়িত্ব রয়েছে।
কোর্টের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো মধ্যস্থতাকারী সত্তা যদি বৈধ অভিযোগ পায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে লঙ্ঘনকারী বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলতে হবে। এই নির্দেশনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে, যাতে অননুমোদিত ব্যবহারকারীকে তাত্ক্ষণিকভাবে থামানো যায়।
আদালতের এই রায়ের পর জে.আর. এনটিআর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দিল্লি হাই কোর্টের এই সুরক্ষা আদেশের জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, যা আজকের ডিজিটাল পরিবেশে আমার পার্সোনালিটি রাইটস রক্ষা করে।” তার এই বক্তব্যে তিনি আদালতের ন্যায়বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করেন।
অভিনেতা এছাড়াও তার আইনি দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. বালাজনাকি শ্রীনিবাসন ও ড. আলকা দাকার, পাশাপাশি রাইটস অ্যান্ড মার্কসের মি. রাজেন্দ্র ও তার দল এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের পেশাদারী পরামর্শ ও কৌশলগত পদক্ষেপ রায়ের অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে ভারতীয় বিচারব্যবস্থা পার্সোনালিটি ও পাবলিসিটি রাইটসকে আরও দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি কোনো সেলিব্রিটির নাম, ছবি বা সাদৃশ্যকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে, এবং তা সুনামের ক্ষতি করে, তবে তা আইনি শাস্তির মুখে পড়বে।
ডিজিটাল যুগে অনলাইন কন্টেন্টের দ্রুত বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে পার্সোনালিটি রাইটসের লঙ্ঘন বাড়ছে। সামাজিক মিডিয়া, ই‑কমার্স ও বিজ্ঞাপন সাইটগুলোতে সেলিব্রিটিদের চিত্র ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা সাধারণ হয়ে উঠেছে, যা প্রায়শই অনুমতি ছাড়া করা হয়।
বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুখের পরিবর্তন বা কণ্ঠস্বরের নকল তৈরি করা এখন সহজ, ফলে সেলিব্রিটিদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। আদালত এই ধরনের প্রযুক্তিগত ঝুঁকিকে বিবেচনা করে রায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অননুমোদিত কন্টেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়।
এই আদেশের ফলে অন্যান্য শিল্পকর্মী ও সেলিব্রিটিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের দিক তৈরি হয়েছে। এখন তারা আইনি পথে তাদের পার্সোনালিটি রাইটস রক্ষার জন্য স্পষ্ট ভিত্তি পাবে, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে বাধ্য করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, সেলিব্রিটিদের উচিত তাদের ডিজিটাল উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো অননুমোদিত ব্যবহার লক্ষ্য হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। একই সঙ্গে, অনলাইন সেবা প্রদানকারীদের উচিত স্বচ্ছ নীতি তৈরি করা, যাতে ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষা পায় এবং লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়।
সারসংক্ষেপে, দিল্লি হাই কোর্টের এই রায় জে.আর. এনটিআরের পার্সোনালিটি রাইটসকে শক্তিশালী করে এবং ডিজিটাল পরিবেশে সেলিব্রিটিদের সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ভবিষ্যতে অননুমোদিত ব্যবহার কমাতে এই রায়ের প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য হবে।



