22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা রেড লাইন ও মুকল্লা বন্দর আক্রমণ

সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা রেড লাইন ও মুকল্লা বন্দর আক্রমণ

সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা রেড লাইন হিসেবে ঘোষণা করার পর, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমানবাহিনী ইয়েমেনের মুকল্লা বন্দরকে লক্ষ্য করে সীমিত সামরিক অভিযান চালায়। এই আক্রমণটি মঙ্গলবার সকালেই সম্পন্ন হয়, যেখানে দুইটি জাহাজ থেকে অবৈধভাবে আনলোড করা অস্ত্র ও যুদ্ধে ব্যবহৃত গাড়ি ধ্বংস করা হয়।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবারের বিবৃতিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যদি জোটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চায়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মুকল্লা বন্দরকে লক্ষ্য করা এই অভিযানটি, ইউএই সমর্থিত দক্ষিণি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

কোয়ালিশন স্পিকার তুর্কি আল-মালকি জানান, শনিবার ও রবিবার দুইটি জাহাজ অনুমোদন ছাড়াই মুকল্লা বন্দর প্রবেশ করে, তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম নিষ্ক্রিয় করে এবং বিশাল পরিমাণে অস্ত্র ও যুদ্ধযান ডেলিভারি করে। এই সরবরাহগুলোকে দক্ষিণি ট্রান্সিশনাল কাউন্সিল (STC) সমর্থনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল আলিমি, আক্রমণের পর ইউএই সেনাবাহিনীর সব বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই অস্ত্র সরবরাহের ফলে অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অবিলম্বে থামাতে হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) জানায়, আক্রমণে কোনো মানবিক ক্ষতি বা পার্শ্বিক ধ্বংস ঘটেনি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র অবৈধভাবে আনলোড করা সামগ্রী ধ্বংস করা, কোনো নাগরিক বা অবকাঠামোকে আঘাত করা নয়।

এই ঘটনার পূর্বে, STC হাদ্রামুট প্রদেশে সরকারী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। জোটের পূর্ব সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সামরিক পদক্ষেপ নিতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত মুকল্লা বন্দর আক্রমণে পরিণত হয়।

অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের রেড লাইন ঘোষণা এবং ইউএই-সৌদি সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়ানো, গালফের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মোড় আনতে পারে। দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমন্বয় এখনো টিকে আছে, তবে এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের মন্তব্য অনুসারে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা কোনো বিকল্প নয় এবং জোটের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে রাখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গালফের নিরাপত্তা কাঠামোকে রক্ষা করতে সকল অংশীদারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পরবর্তী সময়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে কীভাবে সৌদি আরব এবং ইউএই এই উত্তেজনা সমাধান করবে এবং ইয়েমেনের সংঘাতের সমগ্র গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে। জোটের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ, ইউএইয়ের প্রত্যাহার পরিকল্পনা এবং STC-র কূটনৈতিক অবস্থান গ্যালফের নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments