সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমানবাহিনী মঙ্গলবার সকালে ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনলোড করা অস্ত্র ও যুদ্ধযানবাহন ধ্বংস করেছে। এই পদক্ষেপটি জোটের পক্ষ থেকে পূর্বে দক্ষিণ ত্রান্সিটোরিয়াল কাউন্সিল (STC)কে হদ্রামুট প্রদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সতর্কতার পর নেওয়া হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) জানায়, মঙ্গলবার সকালবেলায় জোটের বিমানবাহিনী মুকাল্লা বন্দর থেকে আনলোড করা অস্ত্র ও গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি উল্লেখ করেন, গত শনিবার ও রবিবার দুইটি জাহাজ অনুমোদনবিহীনভাবে বন্দর প্রবেশ করে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে এবং বড় পরিমাণে অস্ত্র ও যুদ্ধযানবাহন অবতরণ করেছিল, যা STC-কে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে ছিল।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের সৌদি সমর্থিত প্রধান রাশাদ আল আলিমি মঙ্গলবারের আকাশ হামলার পর ইউএই বাহিনীর সব ইউনিটকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন ত্যাগ করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ও উত্তেজনা বিবেচনা করে, জোটের বিমানবাহিনী আজ সকালে মুকাল্লা বন্দর থেকে আনলোড করা অস্ত্র ও যুদ্ধযানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে।” SPA এই বিবরণটি পুনরায় প্রকাশ করেছে।
রিপোর্ট অনুসারে, আক্রমণটি বিশেষভাবে সেই ডকে কেন্দ্রীভূত ছিল যেখানে জাহাজগুলো থেকে সামগ্রী নামানো হয়েছিল। জোটের পক্ষ থেকে কোনো মানবিক ক্ষতি বা পার্শ্বিক ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং তারা উল্লেখ করেছে যে এই অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে STC এবং ইয়েমেনের সরকারী বাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনা, যা এই মাসের শুরুর দিকে STC-র হদ্রামুট প্রদেশে সরকারী সৈন্যবাহিনীর ওপর আক্রমণের মাধ্যমে তীব্রতর হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সলমান আল সউদ টুইটারে STC-র সৈন্যদের দুইটি আঞ্চলিক গভর্নরেট শান্তিপূর্ণভাবে সরকারকে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।
STC মূলত ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে গঠিত হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোটের সঙ্গে তার সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছে। জোটের এই সামরিক পদক্ষেপটি অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি STC-র আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করার উদ্দেশ্য বহন করে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মুকাল্লা বন্দর ইয়েমেনের দক্ষিণে কৌশলগত গুরুত্বের অধিকারী, যেখানে সামরিক সরবরাহের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হলে সামগ্রিক সংঘর্ষের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। জোটের এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
পরবর্তী সময়ে জোটের পক্ষ থেকে মুকাল্লা বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে অননুমোদিত জাহাজের প্রবেশ রোধ করা যায়। একই সঙ্গে, STC-র সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে।
ইয়েমেনের সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে মুকাল্লা বন্দর থেকে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার এই সামরিক পদক্ষেপটি সংঘাতের তীব্রতা হ্রাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



