বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সাংবাদিকদের সমবেত হয়ে ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল্যায়ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষার পথে নিজেকে বিজয়ী প্রমাণ করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে, একই দিনে সকাল ৬টায় হাসপাতালের ঘরে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের খবর শেয়ার করা হয়।
ড. মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘ বছর ধরে স্বৈরাচারী শাসনের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছেন, তবু তিনি কখনো অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। তিনি একবারও আপোষের পথ বেছে নেননি, বরং রাস্তায়, জনসমাবেশে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ শাসনকালে তার ওপর মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক দমন চালু হয়, যা তাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
খালেদা জিয়া যখন সহকর্মী ও সমর্থকদের পরামর্শে থামতে বলেছিলেন, তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তিনি ন্যায় ও সত্যের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এবং সম্পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তিনি এই সংগ্রামকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ধরনের দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। ড. মঈন খান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বৃহৎ আন্দোলন পর্যন্ত তিনি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অবিচলভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান অর্জন করেছেন। তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং এই দিক থেকে বহু নারী ও তরুণীর জন্য পথপ্রদর্শক ছিলেন। ড. মঈন খান বলেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নারীর অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
ড. মঈন খান আরও জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী শোক প্রকাশ করেছে এবং তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ তার স্মৃতিকে চিরকাল সংরক্ষণ করবে এবং তার আদর্শের আলোতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা বিভাগে খালেদা জিয়ার শেষ মুহূর্তের তথ্য জানানো হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘকালীন রোগের কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ দেশের রাজনৈতিক পরিসরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন হয়।
বিএনপি দলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার সংগ্রামকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে, সরকারী পক্ষও শোকের প্রকাশ জানিয়ে তার অবদানকে সম্মান জানিয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং তার গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের মূল্যায়ন দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক যোগ করেছে। ড. মঈন খান যে যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে, তিনি দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে অম্লান থাকবে।



