বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা শেষ করার পর মিডিয়াকে জানালেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের তথ্য সরকার থেকে জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘোষণার জন্য সরকার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং দুই মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত, বর্তমানে স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত তথ্য ও দাফনের পরিকল্পনা জাতির জানার অধিকার, তাই সরকার ও দল উভয়ই এই বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, জানাজা ও দাফনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল দাফনের সময়সূচি, স্থান এবং প্রোটোকল, যাতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পূর্বেই নির্ধারিত হয়।
বিএনপি দল জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এই বিষয়ের সব বিবরণ জাতির কাছে জানাবেন। মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বললেন, প্রেস সচিবের মাধ্যমে সরকারী দৃষ্টিকোণ ও পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে, যা জনমতকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গঠন করতে সহায়তা করবে।
দলটি সকালেই এই বিষয়টি জাতির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে। সাড়ে বারোটা টায় স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকের পর ফলাফল দ্রুত মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ, দাফনের স্থান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রোটোকলসহ সকল প্রয়োজনীয় বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তগুলো জাতির কাছে স্বচ্ছভাবে জানানো হবে, যাতে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে।
বিএনপি এই পদক্ষেপকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ কাজ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দলটি দাবি করে, সরকারী সহযোগিতার মাধ্যমে জানাজা ও দাফনের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, যা রাজনৈতিক সংলাপের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে বলে জানা যায়। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, জানাজা ও দাফনের পরিকল্পনা নিয়ে সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সমন্বয় করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দাফন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
সকাল ১২টায় নির্ধারিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরে, জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ও প্রোটোকল জাতির কাছে জানানো হবে। মির্জা ফখরুল নিশ্চিত করেছেন, বৈঠকের ফলাফল দ্রুত মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ সঠিক তথ্য পায়।
জনসাধারণ এই তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকরা জানাজা ও দাফনের যথাযথ ব্যবস্থা চায়। দলটি দাবি করে, দাফনের সময় সকল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি মেনে চলা হবে, যাতে পরিবারের শোকের সময় কোনো বাধা না থাকে।
বিএনপি ও সরকারের সমন্বয়ে জানাজা ও দাফনের বিষয়টি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জাতির জানার অধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক সংলাপকে সুদৃঢ় করা এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।



