বহুল প্রত্যাশার সঙ্গে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা কর্তিক আরিয়ান এবং পরিচালক কবির খান তাদের পরবর্তী প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করেছেন। দুজনের এই নতুন ছবিটি একটি স্পোর্টস‑অ্যাডভেঞ্চার জঁরে, যার পটভূমি কাশ্মীরের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। শুটিং কাজ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হবে এবং মোট নয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ছবিটি ২০২৭ সালের মধ্যে থিয়েটারে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে।
কর্তিক আরিয়ান এবং কবির খান পূর্বে একসাথে কাজ করেছেন, এবং এই প্রকল্পে তারা আবার একত্রিত হচ্ছেন। উভয়ের মধ্যে এই পুনর্মিলনটি শিল্পের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ছবির গল্পটি স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা ও অভিযানের মিশ্রণ, যেখানে কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চল এবং উপত্যকার দৃশ্যগুলোকে মূল ভিজ্যুয়াল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
প্রযোজনা সংস্থা উচ্চ বাজেটের সঙ্গে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। এই বাজেটের অংশ হিসেবে, প্রধান চরিত্রের শারীরিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হবে। কর্তিক আরিয়ানকে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং দৃশ্যগুলোতে অংশ নিতে কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যা ছবির বাস্তবতা ও উত্তেজনা বাড়াবে।
শুটিংয়ের জন্য নির্বাচিত স্থানগুলো কাশ্মীরের পাশাপাশি অন্যান্য বহু লোকেশন অন্তর্ভুক্ত করবে। এই বহুমুখী লোকেশনগুলো ছবির ভিজ্যুয়াল বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে এবং দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। শুটিং চলাকালীন সময়ে স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রেখে কাজ করা হবে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
প্রযোজনা দল ছবির সময়সূচি অনুযায়ী কাজের গতি বজায় রাখতে পরিকল্পনা করেছে। নাইন মাসের শুটিং সময়ের মধ্যে সমস্ত দৃশ্য সম্পন্ন করার জন্য টিমটি উচ্চমানের প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। এই সময়সূচি অনুসারে পোস্ট-প্রোডাকশন কাজও সমান্তরালভাবে চালু হবে, যাতে মুক্তির তারিখে কোনো দেরি না হয়।
ছবির বিষয়বস্তু স্পোর্টসের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারকে একত্রিত করে, যা দর্শকদের জন্য নতুন ধরণের বিনোদন প্রদান করবে। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে, গল্পের মধ্যে উত্তেজনা ও আবেগের মিশ্রণ তৈরি করা হবে। এই ধরনের থিমের ছবি পূর্বে কমই দেখা গেছে, ফলে এটি একটি নতুন ধারার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কাস্টে প্রধান ভূমিকায় কর্তিক আরিয়ান থাকবেন, যিনি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং দৃশ্যগুলোতে নিজেকে প্রমাণ করবেন। তার সঙ্গে অন্যান্য সহায়ক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা থাকবে, যারা গল্পের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পরিচালক কবির খান ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও বর্ণনায় তার স্বকীয় ছাপ রেখে গেছেন।
প্রযোজনা সংস্থা ছবির প্রচার কার্যক্রমের জন্য পরিকল্পনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মুক্তির পূর্বে বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, কাশ্মীরের স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্পোর্টস থিমকে তুলে ধরে বিশেষ ইভেন্টের আয়োজনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি। উচ্চ উৎপাদন মান এবং অনন্য থিমের মাধ্যমে ছবিটি বিদেশি দর্শকদেরও আকৃষ্ট করতে পারে। ফলে, ছবির রিলিজের সময় আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল ও বিতরণ চ্যানেলগুলোকে লক্ষ্য করা হবে।
শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। কাশ্মীরের সংবেদনশীল ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় কর্মী ও কাস্টের জন্য স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
প্রযোজনা দল ছবির সাউন্ডট্র্যাক ও মিউজিকের জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে। কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী সুর ও আধুনিক সঙ্গীতের সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ অডিও অভিজ্ঞতা তৈরি করা হবে। এই সাউন্ডট্র্যাকটি ছবির আবেগময় মুহূর্তগুলোকে আরও গভীর করবে।
সামগ্রিকভাবে, কর্তিক আরিয়ান ও কবির খান-এর এই নতুন স্পোর্টস‑অ্যাডভেঞ্চার ছবি বলিউডের ক্যালেন্ডারে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। শুটিংয়ের সূচনা, লোকেশন নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং মুক্তির পরিকল্পনা সবই স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। দর্শকরা ২০২৭ সালে বড় পর্দায় এই ছবির মাধ্যমে কাশ্মীরের সৌন্দর্য ও স্পোর্টসের উত্তেজনা উপভোগ করতে পারবেন।



