ভুটানের ২২ বছর বয়সী বামহাতি স্পিনার সোনাম ইয়েশে ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে আটটি উইকেট সংগ্রহ করে রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তিনি দেশের ঘরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় পুরুষ ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মিয়ানমার দলের বিপক্ষে চার ওভারে ৮-৭ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে ১‑২৭ রান দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখেন, আর মিয়ানমার ৪৫ রানে আটকে যায়।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ইয়েশে ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় সায়াজরুল ইদ্রুস (মালয়েশিয়া বনাম চীন, ২০২৩, ৭-৮) এবং আলি দাওদ (বাহরাইন বনাম ভুটান, এই বছর, ৭-১৯) কে ছাড়িয়ে গেছেন। তার এই সাফল্য ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের সেরা বোলিং রেকর্ডে নতুন নাম যুক্ত করেছে।
ইয়েশে ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিক деб্যু করেন, যেখানে তিনি ৩-১৬ রেকর্ড করেন। তখন থেকে তিনি ৩৪টি ম্যাচে মোট ৩৭টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা এবং দক্ষতা নির্দেশ করে। তার এই সাফল্য দেশের ক্রিকেটের উত্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছে।
দ্যাবি-২০ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি স্তরে এখনো কোনো খেলোয়াড় আট উইকেটের পারফরম্যান্স দেখায়নি। সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে কলিন একারম্যান ২০১৯ সালের ইংলিশ T20 ব্লাস্টে লেসেস্টারশায়ার ফক্সেসের হয়ে বার্মিংহাম বেয়ারসের বিরুদ্ধে ৭-১৮ রেকর্ড করেছিলেন। একইভাবে, টাস্কিন আহমেদ এই বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দুরবার রাজশাহির হয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ৭-১৯ রেকর্ড করেন।
মহিলা ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বোলিং রেকর্ড ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার রোহমালিয়া মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে ৭-০ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও এটি ভিন্ন বিভাগ, তবু ত্রিশ-২০ ক্রিকেটে উচ্চতর পারফরম্যান্সের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
ইয়েশের এই রেকর্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ভুটানের কোচিং স্টাফ এবং দলের সহকর্মীরা তার দক্ষতা ও শৃঙ্খলা প্রশংসা করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, তরুণ স্পিনারটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে।
মিয়ানমার দলের জন্য এই ম্যাচটি কঠিন ছিল; ১‑২৭ রানে সীমাবদ্ধ রাখার পর তারা মাত্র ৪৫ রানে আটকে যায়, যা তাদের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা এবং ইয়েশের বোলিংয়ের প্রভাবকে স্পষ্ট করে। মিয়ানমার ক্যাপ্টেনের মন্তব্যে দেখা যায়, তারা ইয়েশের স্পিনের গতি ও দিকনির্দেশনা সামলাতে পারেনি।
ভুটানের ক্রিকেট বোর্ড এই রেকর্ডকে দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্নয়নের একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যাতে তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং দেশের ক্রিকেটের মানোন্নয়ন হয়।
ইয়েশের পারফরম্যান্সের পর ভুটানের ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ভুটানের পতাকার রঙে পোস্ট এবং শুভেচ্ছা বার্তা প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া উত্সাহকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
এই রেকর্ডটি ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য দল ও খেলোয়াড়দের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ লক্ষ্য স্থাপন করবে।
ইয়েশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ভুটানের ক্রিকেট সংস্থা শীঘ্রই নতুন সিরিজের পরিকল্পনা জানাবে, যাতে তার দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সোনাম ইয়েশের আট উইকেটের পারফরম্যান্স ভুটানের ক্রিকেটের জন্য গর্বের বিষয় এবং ত্রিশ-২০ আন্তর্জাতিকের রেকর্ডের তালিকায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে। তার এই সাফল্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রেমিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।



