খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন, ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করেন। একই বছর শেহরী হাসিনা নির্বাসন থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, আর দেশটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সামরিক শাসনের অধীনে চলে যায়। উভয় প্রধান দলই গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবি করে একত্রিত হয়।
১৯৮৬ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নির্বাচনের ঘোষণা দেন। প্রথমে বিরোধীরা এটিকে সামরিক শাসনের বৈধতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা বলে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলাম অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
কখনো প্রতিষ্ঠিত না হওয়া বিএনপি ও খালেদা জিয়া, যাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সীমিত, এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে দাঁড়ান। ভোটদানে অংশগ্রহণ করলে পার্টির জন্য সম্পদ, মিডিয়া দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্ষমতার নিকটতা অর্জন সম্ভব হতো, তবু তিনি ভোটবহিষ্কারের পথে অটল থাকেন। এই পদক্ষেপ তাকে ক্ষমতার নিকটতা ত্যাগ করে ন্যায়সঙ্গততা বজায় রাখার নেতা হিসেবে চিত্রিত করে, যা তার জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৯১ সালে বহুদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়, এবং খালেদা জিয়া ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তার শাসনকালে কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তে সমালোচনা থাকলেও, ১৯৯৬ সালে তার সরকার নিজেই পরিচালিত নির্বাচনের ফলে বিরোধী দল ও নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দেয়। এই ঘটনা সরকারে আস্থা হ্রাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, শেহরী মুখোপাধ্যায়ের শাসনকালে এবং পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত‑ই‑ইসলামের মত বিরোধী দলগুলো খালেদা জিয়ার এই অটল অবস্থানকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে। তারা বলেন, তার ভোটবহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পার্টির স্বতন্ত্রতা রক্ষা করেছে এবং ক্ষমতার সঙ্গে আপোষ না করার উদাহরণ স্থাপন করেছে। তবে একই সময়ে তারা তার শাসনকালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের থেকে আলাদা, কারণ তিনি বিরোধী মতামত দমন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেননি। তার নেতৃত্বের ধরন ও সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন বিরোধী দলগুলো ক্ষমতার নিকটতা ও ন্যায়সঙ্গততা বজায় রাখার মধ্যে সমতা রক্ষা করার চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন অটলতা, কৌশলগত বিচ্যুতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গঠিত। তার পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে পার্টির অবস্থান ও জনমতের গঠনকে প্রভাবিত করবে।



