বহু বছর ধরে সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে পরিচিত অভিনেতা সৈফ আলি খান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি নিলঞ্জনা রয়ের “ব্ল্যাক রিভার” উপন্যাসের চলচ্চিত্র অধিকার ক্রয় করেছেন এবং তা বড় পর্দায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে উপন্যাসের গভীর মানবিক ও সামাজিক দিকগুলো তাকে আকৃষ্ট করেছে।
সৈফের বইয়ের প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিনের, এবং তিনি প্রায়ই নিজের পাঠের তালিকায় বিভিন্ন ধারার রচনাকে স্থান দেন। সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় তিনি উল্লেখ করেন, “ব্ল্যাক রিভার” তার প্রিয় পাঠের মধ্যে অন্যতম, যা সাধারণ অপরাধ উপন্যাসের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।
উপন্যাসটি মূলত একটি পুলিশ প্রক্রিয়াভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের গল্প, তবে এতে এক তরুণী শিশুর মৃত্যুর বেদনাদায়ক দিকও অন্তর্ভুক্ত, যা পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করে। সৈফের মতে, গল্পের কাঠামো এবং চরিত্রের মানসিক বিশ্লেষণ একসাথে মিশে একটি অনন্য আবেগীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এই গভীর সংযোগের ফলে তিনি বইটির অধিকার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এখন চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে কাজ চলছে। যদিও প্রকল্পটি এখনও সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, তবে তিনি আশাবাদী যে সঠিক সময়ে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
সৈফ উপন্যাসটির বর্ণনা শৈলীর প্রশংসা করেন, তাকে “সুরেলা”, “নাটকীয়” এবং “কবিতাময়” বলে বর্ণনা করেন। তিনি যোগ করেন, গল্পের আবেগিক তীব্রতা কেবল রহস্যের সীমা অতিক্রম করে, মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
উপন্যাসের প্রচারমূলক বিবরণে বলা হয়েছে, এটি এমন এক ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যা হয়তো আর বিদ্যমান নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সৈফের মন্তব্য, “এটি এমন এক ভারতের প্রতি অডি, যা অতীতের স্মৃতিতে বেঁচে আছে,” পাঠকদের মধ্যে অতীতের প্রতি আকৃষ্টতা জাগিয়ে তুলেছে।
সাহিত্যের পাশাপাশি সৈফের আরেকটি বিশেষ আগ্রহ হল ভূতকাহিনী, বিশেষত যেগুলো সাহিত্যিক গুণে সমৃদ্ধ। তিনি জাপানি ভূতকাহিনী সংগ্রহ “Japanese Ghost Stories”-এর প্রশংসা করেন, যা লাফকেডিয়ো হার্নের রচনায় রচিত।
লাফকেডিয়ো হার্নের জীবনীতে দেখা যায়, তিনি আয়ারল্যান্ড থেকে জাপানে গিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতিতে গভীরভাবে নিমজ্জিত হয়েছেন এবং ঐতিহ্যবাহী ভূতকাহিনীগুলোকে নতুন কবিতাময় শৈলীতে উপস্থাপন করেছেন। সৈফের মতে, হার্নের রচনায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ একটি অনন্য পাঠের আনন্দ দেয়।
এই ধরনের গল্পের প্রতি তার আকর্ষণ শুধুমাত্র অতিপ্রাকৃত উপাদানের জন্য নয়, বরং লেখকের ভাষার সুর ও আবেগের গভীরতার জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, “ভূতকাহিনীর ভয়াবহতা নয়, বরং তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা মানবিক অনুভূতি ও শিল্পীসুলভ বর্ণনা আমাকে মুগ্ধ করে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার পাঠের পছন্দকে আরও সমৃদ্ধ করে।
সৈফ আরও উল্লেখ করেন, নিলঞ্জনা রয়ের অন্য একটি কাজ “Pandora’s Jar” তার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, যদিও তিনি সেই বইয়ের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেননি। এই তথ্য থেকে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন ধারার সাহিত্যকে সমানভাবে মূল্যায়ন করেন।
সামগ্রিকভাবে, সৈফ আলি খান তার চলচ্চিত্র প্রকল্পের পাশাপাশি সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ব্ল্যাক রিভার”কে বড় পর্দায় রূপান্তরিত করার মাধ্যমে দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা উপলব্ধি করাতে চাই। তার এই উদ্যোগ তরুণ পাঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সাহিত্য ও সিনেমার এই সমন্বয়কে কাজে লাগিয়ে, পাঠক ও দর্শক উভয়কেই সুপারিশ করা যায়, যেন তারা নিলঞ্জনা রয়ের কাজ এবং লাফকেডিয়ো হার্নের ভূতকাহিনী দুটোই একসাথে উপভোগ করে, যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করবে এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি বাড়াবে।



