28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিখালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া, ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন; তিনি ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে দুই মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বামীর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিএনপি নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং রাজনৈতিক জীবনে দু’বার দুর্নীতি অভিযোগে কারাগারে ছিলেন, তবে ২০২৪ সালের উত্থানপরে মামলাগুলি বাদ পড়ে।

১৯৪৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চা বণিকের কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন, পার্টিশনের পর পরিবার বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি তখনকার তরুণ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৭৭ সালে সামরিক শাসন শেষ হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হন, রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন মিডিয়া পুনরায় চালু করেন।

১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা গোষ্ঠী হত্যা করে। এ পর্যন্ত তিনি গৃহিণী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দ্রুত পার্টির সহ-চেয়ারম্যান পদে উন্নীত হন।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশে নবম বছর পর্যন্ত সামরিক শাসন শুরু হয়। খালেদা জিয়া দলীয় প্রচার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করেন, যদিও তিনি পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেননি এবং বাড়িতে আটক হন। তবু তিনি জনসমাবেশ ও কর্মসূচি চালিয়ে সামরিক শাসনের চাপ কমাতে সক্ষম হন।

১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয় এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দেন; তার মেয়াদে সড়ক ও সেতু নির্মাণে বড় অগ্রগতি দেখা যায়, যা দেশের বাণিজ্যিক সংযোগকে শক্তিশালী করে। তবে তার শাসনকালকে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী প্রবণতার অভিযোগে সমালোচনা করা হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিএনপি শাসন ফিরে আসে এবং তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। এই সময়ে তার বিরোধী শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতি, রাজনৈতিক তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। শেখ হাসিনার সঙ্গে তীব্র বিতর্কে উভয় পার্টি জনসমর্থন অর্জনের জন্য রেলওয়ে ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়।

২০০৭ সালে দুর্নীতি ও সম্পদ সঞ্চয় সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তার কারাবাসকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে সমালোচনা করে, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি করে। সমর্থকরা তাকে রাজনৈতিক শিকারের শিকার বলে দাবি করে।

২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধী শেখ হাসিনার সরকার পতিত হয়। এই পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা বেশিরভাগ মামলায় রায় বাতিল হয়, যা তাকে আইনি দিক থেকে মুক্তি দেয়। মামলার বাতিলের পর জনমত বিভক্ত হয়; কিছু মানুষ তাকে ন্যায়বিচার অর্জন হিসেবে দেখে, আবার অন্যরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বের পরবর্তী দিকনির্দেশনা ও শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলই তার মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের শেষ হিসেবে উল্লেখ করে, তবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি অভ্যন্তরে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান চলছে, যেখানে পার্টির তরুণ সদস্যরা শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষে থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তার শাসনকালে গৃহীত নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই সম্ভাব্য জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা পরবর্তী নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

৯৭/১০০ ৬টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসিডেইলি স্টারBanglastreamবিডি প্রতিদিন+২
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments