রূপালী ব্যাংক শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে নতুন ডাবল বেনিফিট স্কিম চালু করেছে, যেখানে একবারের জমা ৬ বছর ৯ মাসের শেষে দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে। এই স্কিমের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা এবং গ্রাহকদের জন্য উচ্চ রিটার্ন নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মাসিক ডিপিএসের মাধ্যমে সঞ্চয় শুরু করে, এবং মেয়াদ শেষের সময় একত্রে বড় পরিমাণ অর্থ পায়। এই অর্থ পরিবারিক চাহিদা, জরুরি খরচ বা শখের জন্য ব্যবহার করা যায়, তবে দ্রুত ব্যয় না করা সঞ্চয়ের মূল উদ্দেশ্য রক্ষা করে।
ডাবল বেনিফিট স্কিমে ন্যূনতম এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে দুই, তিন, চার, পাঁচ লাখ বা তার বেশি পরিমাণ একবারে জমা দেওয়া যায়। স্কিমের শর্ত অনুসারে, জমা রাখা অর্থ ৬ বছর ৯ মাসে দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে, এবং সুদের হার ১০.৮২ শতাংশ নির্ধারিত। কর কেটে নেওয়ার পর শুদ্ধ রিটার্ন প্রদান করা হয়, যা সঞ্চয়কারীর জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প।
স্কিমের আরেকটি সুবিধা হল জরুরি ঋণসুবিধা, যা গ্রাহককে প্রয়োজনের সময় দ্রুত অর্থায়ন করতে সহায়তা করে। এছাড়া, স্কিমটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই উন্মুক্ত, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও দীর্ঘমেয়াদী তহবিল সংগ্রহে এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারে। মেয়াদ পূর্তির আগে হিসাবধারীর মৃত্যু হলে, নামিনির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে যৌথভাবে হিসাব খুলতে পারা সম্ভব।
এই স্কিমটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভিত্তিক, যার ফলে চুক্তির সময় নির্ধারিত সুদের হার বা দ্বিগুণ হওয়ার শর্তের কোনো পরিবর্তন করা যায় না। ফলে সঞ্চয়কারীকে সুদের হার পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সহজ হয়।
রূপালী ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ব্যাংকও ডাবল বেনিফিট স্কিমের মতো উচ্চ রিটার্নের সঞ্চয় পণ্য চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) একই ধরনের স্কিম প্রদান করে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ধরনের পণ্যগুলো গ্রাহকের দৃষ্টিতে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা ও রিটার্নের সমন্বয় ঘটায়।
ব্যাংকগুলোর জন্য এই স্কিমের অর্থনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদী আমানত বাড়ার ফলে ব্যাংকের তহবিলের গঠন শক্তিশালী হয়, যা ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে, উচ্চ সুদের হার প্রদান করে গ্রাহকের আকর্ষণ বাড়ে, ফলে ডিপিএস ও অন্যান্য সঞ্চয় পণ্যের চাহিদা তীব্র হয়।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ডাবল বেনিফিট স্কিমের মাধ্যমে রিটেইল সেভিংসের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের মোট সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে, সুদের হার স্থায়ী রাখার জন্য ব্যাংককে তার সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা সতর্কভাবে করতে হবে, যাতে সুদের হার বৃদ্ধির সময় লিকুইডিটি ঝুঁকি না দেখা দেয়।
ঝুঁকি দিক থেকে, উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের সুদের হার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। কর কাটার পর শুদ্ধ রিটার্নের প্রকৃত মান গ্রাহকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তা সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী লক-ইন পিরিয়ডের কারণে তহবিলের তরলতা সীমিত হতে পারে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রাহকের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্দেশ করে যে, নিরাপদ ও উচ্চ রিটার্নের সঞ্চয় পণ্যের চাহিদা বাড়বে, বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে। ব্যাংকগুলো এই চাহিদা মেটাতে স্কিমের শর্তে নমনীয়তা যোগ করতে পারে, যেমন স্বল্প মেয়াদী বিকল্প বা কর সুবিধা বৃদ্ধি। তবে, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পরিবর্তন স্কিমের লাভজনকতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংক্ষেপে, রূপালী ব্যাংকের ডাবল বেনিফিট স্কিম দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে, ব্যাংকের তহবিল গঠন শক্তিশালী করে এবং রিটেইল সেভিংসের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায়। গ্রাহকের জন্য উচ্চ রিটার্ন ও জরুরি ঋণসুবিধা সুবিধা থাকলেও, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা জরুরি। ভবিষ্যতে একই ধরনের পণ্যগুলোর বিকাশে বাজারের চাহিদা ও নীতিগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



