জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) গতকাল ৪৭ প্রার্থীর জন্য নামিনেশন ফর্ম দাখিল করেছে, যদিও জামায়াত‑ই‑ইসলামির সঙ্গে আসন ভাগের চুক্তি বর্তমানে ৩০টি আসন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। দাখিলের স্থান ও সময়ের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, আসন ভাগের চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও সম্পন্ন হয়নি।
এনসিপি ও জামায়াত‑ই‑ইসলামির মধ্যে আসন ভাগের চুক্তি মূলত ৩০টি আসনকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ৪০টি পর্যন্ত আসন নিয়ে সমঝোতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এই চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় অতিরিক্ত নামিনেশন দাখিল করা হয়েছে।
এনসিপি কনভিনার নাহিদ ইসলাম গতকাল একটি প্রেস কনফারেন্সে জানিয়ে বলেন, “আমরা ৪৭টি নামিনেশন ফর্ম জমা দিয়েছি। আসন ভাগের চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাই আমরা সামান্য বেশি সংখ্যক ফর্ম দাখিল করেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু ফর্মে ত্রুটি বা অসঙ্গতি থাকলে তা বাতিল হতে পারে।
নাহিদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, দাখিলকৃত ফর্মগুলোর মধ্যে কিছু অস্বীকৃত হতে পারে, তবে তা পার্টির মোট কৌশলকে বদলে দেবে না। ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, পার্টির অভ্যন্তরে প্রায় ৩০ জন নেতা ইতিমধ্যে জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থিতা অনুমোদনের সবুজ সংকেত পেয়েছেন। এই অনুমোদন প্রক্রিয়া পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
নাহিদ ইসলাম নিজে ঢাকা-১১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছেন এবং তার নামিনেশন ফর্ম ঢাকা ডিভিশনাল কমিশনারের অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ তার নিজস্ব নির্বাচনী ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির জেনারেল সেক্রেটারি আকতার হোসেন রংপুর-৪ থেকে নামিনেশন দাখিল করেছেন। রংপুরের এই নির্বাচন তার পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় উপস্থিতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বহির্গামী চিফ কো-অর্ডিনেটর নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ঢাকা-৮ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জোটের সবুজ সংকেত পেয়েছেন। পাটওয়ারির এই অনুমোদন পার্টির রাজধানী অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে।
অন্যান্য অনুমোদিত নেতাদের মধ্যে রয়েছে চিফ অর্গানাইজার (সাউথ) হাসনাত আবদুল্লাহা (কুমিল্লা-৪), চিফ অর্গানাইজার (নর্থ) সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১), সিনিয়র জয়েন্ট কনভিনার আরিফুল ইসলাম আদিব (ঢাকা-১৪) এবং জয়েন্ট কনভিনার জাভেদ রাসিন (ঢাকা-৯)। রাসিন গত রাতেই তার নামিনেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে, প্রধান জোট অনুমোদিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে সারওয়ার তুষার (নরসিংদি-২), আবদুল্লাহ আল-আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪), সাইফ মোস্তাফিজ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), আবু সায়েদ মুসা (বরিশাল-৪), ড. জাহেদুল ইসলাম (ঢাকা-৪) এবং শাকিল আহমেদ (মেহেরপুর-২)। এই প্রার্থীরা পার্টির বিস্তৃত ভৌগোলিক কভারেজ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ শজিব ভূইয়ান এনসিপিতে যোগ দিয়ে পার্টির মুখপাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, যা পার্টির কৌশলগত যোগাযোগকে সুসংহত করবে।
প্রেস কনফারেন্সে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে জানান যে, পাটওয়ারির চিফ কো-অর্ডিনেটর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি নতুন নেতৃত্বের কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এই পদক্ষেপ পার্টির অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াত‑ই‑ইসলামির মধ্যে আসন ভাগের চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও, দাখিলকৃত ৪৭টি নামিনেশন ফর্মের মাধ্যমে পার্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচনী কমিশনের পর্যালোচনা, ত্রুটি সংশোধন এবং জোটের সঙ্গে চূড়ান্ত আসন ভাগের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে এনসিপি কতগুলো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা স্পষ্ট হবে।
অবশেষে, পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসন ভাগের চূড়ান্ত সমঝোতা এবং নামিনেশন ফর্মের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনসিপি নির্বাচনী মঞ্চে কীভাবে অবস্থান করবে তা দেখা বাকি।



