রিপন মণ্ডল, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দ্রুতগতির পেসার, বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ)‑এর সাম্প্রতিক ম্যাচে দেখানো পারফরম্যান্সের ফলে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে আছেন। তার দল তাকে প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না দিয়ে, রাতের ম্যাচে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে তিনি সীমিত ওভারেই উল্লেখযোগ্য বোলিং করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করেন।
ম্যাচের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন, বলেন যে পূর্বের কোনো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ায় তার আত্মবিশ্বাস ইতিমধ্যে দৃঢ়, এবং এই পারফরম্যান্স তার বিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, কোনো মুহূর্তে সুযোগ পেলে তা শেষ সুযোগের মতো গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন এবং সবসময় প্রস্তুত অবস্থায় থাকেন।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কোচিং স্টাফের সঙ্গে পূর্বে জানানো হয়েছিল যে প্রথম দুই ম্যাচের একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রিপনকে মাঠে নামার সুযোগ নাও হতে পারে। তবে রাতের ম্যাচে তিনি যখন সুযোগ পান, তখন তার বোলিং গতি, লাইন এবং দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলেন। তার এই পারফরম্যান্সের ফলে দলের স্কোরে স্থিতিশীলতা আসে এবং শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়া সম্ভব হয়।
রিপনের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। তিনি বিগ ব্যাশ লিগে (বিগ ব্যাশ) অংশগ্রহণের সময় একের পর এক ইয়র্কার এবং সুপার ওভারের বোলিং দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া, এশিয়ান গেমসে তিনি ত্রিপক্ষীয় টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনটি ম্যাচে অংশ নেন, যদিও সেই সময়ে তিনি দ্বিতীয় সারির দলের অংশ ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে উচ্চ স্তরের চাপের মধ্যে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সক্ষম করেছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন জাতীয় দলের দরজায় প্রবেশের জন্য রিপন বিপিএলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, যদি তিনি এই লিগে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলের দায়িত্বে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে। তার মতে, এই সুযোগের অপেক্ষা এখনই তার প্রধান লক্ষ্য, এবং সুযোগ এলে তা সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করবেন।
রিপনের এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ব্যক্তিগত মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, খেলোয়াড় হিসেবে কখনোই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে, বর্তমান মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করা উচিত। “যেকোনো সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে,” তিনি বলেন, যা তার ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও শারীরিক ফিটনেসের প্রতি অঙ্গীকারকে প্রকাশ করে।
বিপিএল মঞ্চে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য ক্রিকেটারদের আর্থিক বিষয়েও আলোচনার সূচনা হয়েছে। আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ)‑এ ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা বেতন পেয়ে মোস্তাফিজের আর্থিক অবস্থার তুলনায় তাসকিনের মন্তব্য উঠে এসেছে, যেখানে তিনি মোস্তাফিজের বেতনের তুলনায় আরও বেশি পারিশ্রমিকের দাবি তুলে ধরেছেন। যদিও এটি রিপনের সরাসরি পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবু দেশের ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বীকৃতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সারসংক্ষেপে, রিপন মণ্ডলের বিপিএল‑এ দেখানো বোলিং পারফরম্যান্স, তার পূর্বের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে তাকে জাতীয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উজ্জ্বল করে তুলেছে। তিনি এখনো বলছেন, সুযোগ পেলে তা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের সাফল্যে অবদান রাখতে চান। ভবিষ্যতে তার পারফরম্যান্স কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে তার ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও ম্যাচে প্রদর্শিত দক্ষতার ওপর।



