27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতানজানিয়ায় নির্বাচনী হিংসা ও আফ্রিকায় গণতন্ত্রের সংকটের সূচক

তানজানিয়ায় নির্বাচনী হিংসা ও আফ্রিকায় গণতন্ত্রের সংকটের সূচক

অক্টোবর মাসে তানজানিয়ায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিবাদে গৃহস্থালির পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণকে নির্বাচনের ফলাফলকে জালিয়াতি বলে দাবি করা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা সমালোচনা করেছে।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ তানজানিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীরা বা তো জেলখানা ভোগ করেছে অথবা প্রার্থিতার অনুমতি থেকে বাদ পড়েছে, ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৮ শতাংশ ভোটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

এই ফলাফলকে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখা কঠিন, কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। তানজানিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে এই ঘটনা বৃহত্তর আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে জনগণ ও শাসক শ্রেণীর মধ্যে বাড়তে থাকা ফাঁককে প্রকাশ করে।

২০২৫ সালে বহু আফ্রিকান দেশে নির্বাচনী বিরোধ ও প্রতিবাদ দেখা গেছে, আর কিছু দেশে সামরিক নেতারা ক্ষমতা দৃঢ় করে তুলেছেন। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে আরও অশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন।

মো ইব্রাহিমের ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় আফ্রিকান শাসনের সূচকগুলোতে ২০২২ পর্যন্ত দশকের তুলনায় অগ্রগতি থেমে গেছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। নিরাপত্তা, সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রের উন্নয়ন ধীর হয়ে গেছে।

বিশেষত সামরিক হস্তক্ষেপের বৃদ্ধি, সামরিক শাসনের পুনরুৎপাদন এবং গণতান্ত্রিক স্থান সংকুচিত হওয়া সবই শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। এই প্রবণতা আফ্রিকায় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা ও জনমতকে উপেক্ষার ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি বহু দেশে অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। যদিও এই প্রবণতা কেবল আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ নয়, তবে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও মৌলিক পণ্যের দাম বাড়ার ফলে জনগণের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে।

মো ইব্রাহিমের মতে, যদি এই নেতিবাচক ধারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সাম্প্রতিক দশকে অর্জিত অগ্রগতি বিপর্যস্ত হতে পারে। তাই শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠন ও জনসেবা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

তবু, ২০২৫ সালে কিছু দেশ ইতিবাচক উদাহরণও দেখিয়েছে। মালাউইতে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা গণতন্ত্রের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

এই ইতিবাচক উদাহরণগুলোকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোতে শাসনব্যবস্থার সংস্কার ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে তা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সমর্থন ও তদারকি প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, তানজানিয়ার ঘটনাটি আফ্রিকান মহাদেশে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা একত্রে কীভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ায় তা স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা থামাতে সমন্বিত নীতি, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

আফ্রিকান দেশগুলোকে এখনই শাসনব্যবস্থার পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক সমাজের শক্তিশালীকরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে গণতন্ত্রের সাফল্য স্থায়ী হয় এবং জনমতের অবিশ্বাস দূর হয়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments