মার‑আ‑লাগো রিসর্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হামাসকে অস্ত্রত্যাগ না করলে কঠোর পরিণতি হবে বলে সতর্ক করেন এবং ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল গাজা অঞ্চলে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি এবং ইসরায়েল ও ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ। তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েল গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে কাজ করছে, যদিও যুদ্ধবিরতির পরেও দৈনিক আক্রমণ চালিয়ে গাজায় কমপক্ষে ৪০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট হামাসকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অস্ত্রত্যাগ করতে বলেছিলেন এবং তা না করলে তাদের জন্য ভয়ানক পরিণতি আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি তারা অস্ত্রত্যাগ না করে, তবে তাদের জন্য শাস্তি কঠোর হবে।” এই মন্তব্যে তিনি হামাসের চুক্তি লঙ্ঘনের দায় সম্পূর্ণভাবে তাদের ওপর চাপিয়ে দেন।
হামাসের পক্ষ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ, যা ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়, এতে হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের পরিবর্তে প্যালেস্টাইনি বন্দীদের মুক্তি, মানবিক সাহায্যের বৃদ্ধি এবং গাজায় ইসরায়েলি সৈন্যের আংশিক প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে হামাস এখনও এক ইসরায়েলি বন্দীর দেহ ফেরত দেয়নি, আর ইসরায়েল ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে গাজায় সাহায্যের প্রবেশ সীমিত করে এবং মিশরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পারাপার দেরি করছে। এই পরিস্থিতি দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, যেখানে আরও ব্যাপক বন্দী বিনিময় এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের মতে, দ্বিতীয় ধাপের বিলম্বের মূল দায় হামাসের ওপর, কারণ তারা ইসরায়েলি দখল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করতে অস্বীকার করেছে। হামাসের নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তারা ইসরায়েলি দখল অব্যাহত থাকলে অস্ত্র ত্যাগের কোনো শর্ত পূরণ করবে না।
ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের বোমা হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও ইরান পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত আক্রমণের ইঙ্গিত দেন, যদি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে।
এই সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ট্রাম্পের অবস্থান ইসরায়েলকে সামরিক সমর্থন বাড়াতে এবং হামাসকে চাপিয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ভবিষ্যতে যদি হামাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্রত্যাগ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত পদক্ষেপ গেজা সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ইরান লেবাননের হেজবোলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং গাজা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। ট্রাম্পের সতর্কতা এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গাজা ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে।



