রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘর্ষে রাশিয়ান সৈন্যের ক্ষতি গত দশ মাসে পূর্বের কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে, এমন তথ্য সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের ফলে ২০২৫ সালে শান্তি আলোচনার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ান সূত্রে সামরিক শহীদদের মৃত্যুসূচি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থা বিবিসি রাশিয়ান দিকের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১,৬০,০০০ নাম নিশ্চিত করেছে। বিবিসি নিউজ রাশিয়া, স্বাধীন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিডিয়াজোনা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। তারা সরকারি রিপোর্ট, সংবাদপত্র, সামাজিক মাধ্যম, নতুন সমাধি ও স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে শহীদদের নাম যাচাই করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাধি ও শোকস্মৃতির বিশ্লেষণ মোট মৃত্যুর মাত্র ৪৫ থেকে ৬৫ শতাংশই ধরা পড়ে। এই অনুমানের ভিত্তিতে রাশিয়ান সৈন্যের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৩,০০০ থেকে ৩৫২,০০০ের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শোকস্মৃতির সংখ্যা একটি প্রাথমিক সূচক, যা যুদ্ধের তীব্রতা ও পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে, যদিও সব তথ্যের পর্যালোচনা শেষে কিছু নাম বাদ পড়তে পারে।
২০২৫ সালের শুরুতে জানুয়ারিতে শোকস্মৃতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তবে ফেব্রুয়ারিতে তা বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি যুদ্ধ শেষের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তী শীর্ষবিন্দু আগস্টে আসে, যখন দুই রাষ্ট্রপতি আলাস্কায় সাক্ষাৎ করেন, যা পুতিনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা শেষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
অক্টোবর মাসে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন বাতিল হওয়ার পর, নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ২৮ পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এই সময়ে দৈনিক গড় শোকস্মৃতি ৩২২টি রেকর্ড করা যায়, যা ২০২৪ সালের গড়ের দ্বিগুণ। শোকস্মৃতির এই উত্থান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ান বাহিনীর ক্ষতির দ্রুত বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার ক্ষতি বৃদ্ধির গতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, বরং যুদ্ধের তীব্রতা ও সামরিক কৌশলের পরিবর্তনের ফল। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগের ফলে যুদ্ধের তীব্রতা সাময়িকভাবে কমলেও, শত্রু পক্ষের ক্ষতি বাড়তে থাকে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘর্ষের অবস্থা কীভাবে বিকশিত হবে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের কূটনৈতিক চালচিত্র ও উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিদ্যার ওপর নির্ভরশীল।
রাশিয়ার সামরিক ক্ষতির সঠিক সংখ্যা এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান তথ্য থেকে স্পষ্ট যে শোকস্মৃতির সংখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক অনুমান অনুযায়ী রাশিয়ান বাহিনীর ক্ষতি পূর্বের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করতে পারে।
যুদ্ধের তীব্রতা ও শোকস্মৃতির পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব। রাশিয়ান শহীদদের নাম ও সংখ্যা যত বেশি স্পষ্ট হবে, ততই কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে।



