ওয়াশিংটন, ডি.সি.‑তে ৬ জানুয়ারি ২০২১ ক্যাপিটল র্যালি পূর্বে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সদর দফতরের বাইরে দুইটি পাইপ বোমা স্থাপন করার অভিযোগে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান কোল জুনিয়র (Brian Cole Jr.) ফেডারেল এজেন্টদের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আদালতে এখনো কোনো দোষ স্বীকার না করলেও, সাম্প্রতিক আদালত নথিতে তিনি নিজে বোমা তৈরি ও স্থাপন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
কোল জানান, বোমা প্রস্তুত করার সময় তার মধ্যে কিছু “স্ন্যাপ” হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি “সবকিছুই খারাপ হয়ে যাচ্ছে” দেখার পর এমন কাজের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনি এই কাজের পেছনে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য না থাকলেও, ভোটের ফলাফল নিয়ে জনগণের মধ্যে বাড়তে থাকা অশান্তি ও অবিশ্বাসকে থামাতে কেউ কিছু বলতে হবে, এমন তার যুক্তি।
তবে কোল স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তিনি কংগ্রেসের ২০২০ নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই বোমা স্থাপনকে যুক্ত করেন না, যা র্যালির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে “উপরের মানুষগুলো”, অর্থাৎ উভয় পক্ষের জনসাধারণের মুখ্য ব্যক্তিত্বরা, জনগণের অভিযোগ উপেক্ষা করে তাদেরকে ষড়যন্ত্রবাদী, খারাপ মানুষ, নাৎসি বা ফ্যাসিস্ট বলে লেবেল করা উচিত নয়।
কোল স্বীকার করেন যে তিনি নিজে কখনো উন্মুক্তভাবে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি, যদিও তার বক্তব্যে দেখা যায় তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি গভীর উদ্বেগ পোষণ করতেন। তার এই স্বীকারোক্তি ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে নতুন দিকনির্দেশনা এনে দিয়েছে, যা পূর্বে বোমা স্থাপনের পেছনের প্রেরণা ও দায়িত্ব সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
বোমাগুলো কখনো বিস্ফোরিত হয়নি; ২০২১ জানুয়ারি র্যালির সময় সেগুলো নিরাপত্তা কর্মীরা আবিষ্কার করে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় তুলে নিয়েছিলেন। ঐ সময়ে demonstrators কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরাজয় স্বীকার করতে বাধা দেওয়ার জন্য হিংসাত্মক প্রতিবাদ করছিলেন, তবে বোমা ও র্যালির সরাসরি সংযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বোমা সংক্রান্ত তদন্ত পাঁচ বছর ধরে চলছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় “শীতল” বলে ঘোষিত হয়েছিল। তবে কোলের স্বীকারোক্তি এই দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধানে নতুন মোড় এনে দিয়েছে, এবং ফেডারেল প্রসিকিউটররা এখনো বোমা স্থাপনের পেছনের নেটওয়ার্ক বা সহায়তাকারী গোষ্ঠীর সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোলকে ৪ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি ব্যবহারযোগ্য বিস্ফোরক বস্তু এবং বিস্ফোরক উপাদানের মাধ্যমে ক্ষতিকারক ধ্বংসের প্রচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোতে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরি করে জনসাধারণের স্থানে স্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যদিও বোমাগুলো কখনো কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে কোলের মামলায় আদালত তার জন্য দোষ স্বীকারের সুযোগ দেবে কিনা, এবং পরবর্তী শুনানিতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ করা হবে কিনা, তা নির্ধারিত হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, আদালত তার শাস্তি, সম্ভাব্য জরিমানা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অতিরিক্ত শর্তাবলী নির্ধারণের দিকে নজর দেবে।
এই মামলাটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয়ক হওয়ায়, মিডিয়া ও সাধারণ জনগণকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়িয়ে, আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিতে বলা হচ্ছে।



