ধারাবাহিক ৩০ ঘণ্টার মধ্যে তাসনিম জারা, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রাক্তন সিনিয়র জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি, স্বাধীন প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ৪,৬৯৩ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নির্বাচনী নাম নিবন্ধন শেষ করেন। তিনি গতকাল বিকেল চারটায় লক্ষ্য পূরণ করে শেষ মুহূর্তে ফর্ম জমা দেন, যা নিবন্ধন শেষ সময়ের ঠিক আগে সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি থেকে পদত্যাগের পর জারা এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার প্রচার দল জানান, তিনি পার্টির কোনো সমর্থন ছাড়াই একদিন-অর্ধেকের মধ্যে ভোটারদের সমর্থন সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে, প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার কমপক্ষে এক শতাংশের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। এই শর্ত পূরণ না করলে, পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের জন্য এই বাধা মওকুফ করা হয়।
তাসনিম জারা, যিনি পূর্বে সংসদ সদস্য ছিলেন, তাই স্বাক্ষর সংগ্রহের এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের ভিত্তি থেকে ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি শূন্য থেকে শুরু করেন।
প্রার্থীর বিবৃতি অনুযায়ী, এক দিন-অর্ধেকের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের নাম, স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব কাজ ছিল। তবু তিনি বলেন, মানুষ তীব্র শীতের মাঝেও সকাল সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
প্রথম দিন, জারার দল খিলগাঁও এলাকায় অভিযান শুরু করে এবং একা প্রায় তিন হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে। এই সংখ্যাটি তার প্রচারকর্তাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য অতি দ্রুত অর্জিত একটি মাইলফলক।
দ্বিতীয় দিন নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ডাউন হওয়ায় স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, ৪,৫০০ের বেশি স্বাক্ষর যাচাই ও জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তবে দলটি প্রযুক্তিগত সমস্যার পরেও কাজ চালিয়ে যায়।
ধারা-৯ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪,৬৯,৩০০। জারা এই অঞ্চলে নিজের প্রস্তাবনা পৌঁছাতে পরিবার ও প্রতিবেশী গোষ্ঠীর সহায়তায় স্বাক্ষর সংগ্রহের পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রত্যেক ভোটার নিজের পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে দল গঠন করে দশ, বিশ বা চল্লিশটি স্বাক্ষর সংগ্রহে সহায়তা করে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্রুত স্বাক্ষর সংগ্রহের এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিশীলতা যোগ করেছে। বিশেষ করে, বড় দলগুলোর মধ্যে ভোটার ভিত্তি বিস্তৃত করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর ভোটার তালিকায় তার নাম যুক্ত হবে এবং তিনি নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবেন। তার উপস্থিতি ধারা-৯-এ ভোটের ভাগাভাগি পুনর্গঠন করতে পারে, যা পার্টি ভিত্তিক ভোটারদের মধ্যে পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা তৈরি করে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য শেষ নিবন্ধন তারিখের পরবর্তী দিনই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়। জারার দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্বাক্ষর সংগ্রহের পদ্ধতি অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন সম্পন্ন করে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার দ্রুত স্বাক্ষর সংগ্রহ, পার্টি ত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



