ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আজকের অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শারিফ ওসমান বিন হাদিকে দেশের সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শীতল বায়ুর প্রভাবের কারণে শাহবাগে চলমান চার দিনের প্রতিবন্ধকতা সাময়িকভাবে বিরতি দেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের শিরোনাম “আমাদের সাংস্কৃতিক নায়কে সালাম” এবং এতে অংশগ্রহণকারী ও মিডিয়াকে হাদির সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাবের উল্লেখ করেন, হাদির অবদানকে জনমত গঠনে ব্যবহার করা উচিত এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শাহবাগের প্রতিবন্ধকতা আগামীকাল পুনরায় শুরু হবে এবং হাদির হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তা চালু থাকবে। হাদি, যিনি মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন, তার হত্যার পর থেকে মঞ্চের নেতৃত্বের মুখে ন্যায়বিচারের দাবি তীব্রতর হয়েছে।
শুক্রবার থেকে শাহবাগে মঞ্চের প্রতিবাদ চলমান, আর রবিবার সরকারকে চারটি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দাবি হল হাদির হত্যাকারীদের বিচারের জন্য ২৪ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ; দ্বিতীয়টি হল বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের কাজের পারমিট স্থগিত করা; তৃতীয়টি হল যদি ভারত অপরাধীকে প্রত্যর্পণ না করে তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা; চতুর্থটি হল সিভিল ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় ‘ফ্যাসিবাদীর সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রকাশ করা।
এই দাবিগুলো মঞ্চের দৃষ্টিতে দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য অপরিহার্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে হাদির হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে, মঞ্চের নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো সহকর্মী আবারও প্রাণ হারায় এবং সরকার বলবে যে অপরাধীরা বিদেশে পালিয়ে গেছে, তবে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অস্ত্র তোলার প্রস্তুতি নেবে।
প্রতিবাদকারীরা প্রথম রাতে ব্যস্ত শাহবাগের চৌরাস্তা দখল করে রেখেছেন এবং এরপর থেকে প্রতিদিন বিকেল দুইটায় অনলাইন প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন পেশা ও রাজনৈতিক পটভূমির মানুষ অন্তর্ভুক্ত, যা মঞ্চের বিস্তৃত সমর্থনকে নির্দেশ করে।
শাহবাগে অনুষ্ঠিত র্যালিতে জাবের বলেন, “যদি আমাদের কোনো ভাই আবারও নিহত হয় এবং সরকার দাবি করে যে হত্যাকারীরা বিদেশে পালিয়ে গেছে, তবে আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অস্ত্র তোলার বাধ্যবাধকতা অনুভব করব এবং ন্যায়ের জন্য লড়াই করব।” এই বক্তব্য মঞ্চের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
এছাড়া জাবের উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে মঞ্চের কোনো প্রার্থী থাকবে না, যদি না হাদির মতো সমমানের যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন কেউ উপস্থিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মঞ্চের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক পার্টি গঠন নয়, বরং সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে চাপ সৃষ্টি করা।
হাদি নিজে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, মঞ্চের কোনো চিহ্ন বা সমর্থন ছাড়াই। তাই মঞ্চের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, হাদির রাজনৈতিক পরিকল্পনা মঞ্চের কাঠামোর বাইরে ছিল এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে মঞ্চের কোনো প্রার্থী তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
মঞ্চের বর্তমান পদক্ষেপগুলো সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেয় এবং হাদির হত্যার দায়িত্বশীলদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করে। আগামীকাল থেকে পুনরায় শুরু হওয়া প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইন ক্যাম্পেইন দুটোই হাদির স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তার স্বীকৃতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে।



