মারাকেশে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের গ্রুপ বি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ স্কোরে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। এই জয় দলকে ছয় পয়েন্টে টেনে নিয়ে এসেছে, যা ইজিপ্টের এক পয়েন্টের পিছিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ হয়েছে। উভয় দলই শেষ ১৬‑তে অগ্রসর হবে, আর তৃতীয় স্থান অধিকারকারী অ্যাঞ্জোলা দুই পয়েন্টে শেষ করে সেরা তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে স্থান পেতে অপেক্ষা করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গোলটি টসেপাং মোরেমি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের মাধ্যমে করেন। মোরেমির শট ডিভাইন লুংগার দেহে আঘাত করে বক্রভাবে জালে গিয়ে গোলের ফলাফল দেয়। এই দ্রুত প্রারম্ভিক স্কোর দলকে শুরুর সাত মিনিটে নেতৃত্ব দেয়।
১৯তম মিনিটে জিম্বাবুয়ের টাওয়ান্ডা মাসওয়ানহিসে ৩৫ গজ দূর থেকে বল নিয়ন্ত্রণ করে দুই ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে রনওয়েন উইলিয়ামসকে ছুঁড়ে নিক্ষেপ করে নিম্নগামী শট দিয়ে সমতা বজায় রাখে। তার এই গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
ব্রেকের পর পাঁচ মিনিটে লাইল ফস্টার লুংগার ব্যাক হেডারকে ওয়াশিংটন আরুবির হাতে পৌঁছে, আর ফস্টার দ্রুত গলে গলে মাথা দিয়ে বলকে জালে পাঠিয়ে দ্বিতীয়বার দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দেয়।
মাসওয়ানহিসের তৃতীয় মিনিটে আবারও সমতা ফিরিয়ে আনে, তবে রনওয়েন উইলিয়ামসের সেভের পরে বল মোডিবার ওপর দিয়ে নিজের নেটের দিকে গিয়ে নিজস্ব গোল হয়ে যায়। এই নিজস্ব গোলটি জিম্বাবুয়ের জন্য তৃতীয় গোলের সমান হয়।
ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে মিডফিল্ডার ওসউইন অ্যাপোলিস পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরকে ৩-২ করে তুলেছে। এই গোলটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস ম্যাচের পর দলের রক্ষার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যদিও দল তিনটি গোলের মাধ্যমে জয় পেয়েছে, তবে মাঝখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে সহজে পার হতে দেখা গিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা দুই বছর আগে আইভরি কোস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্যও নিশ্চিত হয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টে দল এখনও পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায়নি, জিম্বাবুয়ের সময়ে কিছু মুহূর্তে সহজে গোলের সুযোগ দেয়া দেখা গিয়েছে।
অ্যাঞ্জোলা গ্রুপে দুই পয়েন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে এবং সেরা চতুর্থ-স্থানীয় দলগুলোর মধ্যে স্থান পেতে অপেক্ষা করবে। ইজিপ্ট গ্রুপে শূন্য-শূন্য ড্র করে শীর্ষে রয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পিছনে এক পয়েন্টে রয়েছে। উভয় দলই শেষ ১৬‑তে প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরবর্তী রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা কোন দলের মুখোমুখি হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে গ্রুপের ফলাফলের ভিত্তিতে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হতে পারে। জিম্বাবুয়ের টুর্নামেন্টের শেষ হয়েছে, এবং তারা গ্রুপে শূন্য পয়েন্টে বেরিয়ে এসেছে।
এই ম্যাচের মূল বিষয়গুলো হল দক্ষিণ আফ্রিকার দ্রুত শুরুর গতি, জিম্বাবুয়ের উজ্জ্বল আক্রমণ, এবং শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করা। গ্রুপের শেষ অবস্থান নির্ধারণে এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



