সামাজিক মিডিয়ার অ্যালগরিদমিক ফিডের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টাদের জন্য অনুসারীর সংখ্যা আর পূর্বের মতো প্রভাবশালী নয়। ২০২৫ সাল থেকে অ্যালগরিদম সম্পূর্ণভাবে বিষয়বস্তু বিতরণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ফলে পোস্ট করলেও তা সব অনুসারীর কাছে পৌঁছায় না। এই পরিবর্তনটি স্রষ্টা সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত, এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতারা এ বিষয়ে একমত যে এখন ফলোয়ার সংখ্যা মূলধারার মেট্রিক নয়।
এই প্রবণতার ফলে স্রষ্টারা তাদের দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন পদ্ধতি অনুসন্ধান করছেন। কিছু স্রষ্টা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট বিষয়বস্তুর তুলনায় মানবিক স্পর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু স্রষ্টা নিজস্ব সৃজনশীলতা ব্যবহার করে নতুন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করছেন। ল্যাব টু কনটেন্ট (LTK) নামক কোম্পানি, যার সিইও অ্যাম্বার ভেঞ্জ বক্স, স্রষ্টা ও ব্র্যান্ডের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে। এই মডেলটি স্রষ্টা যে পণ্য সুপারিশ করেন তার বিক্রয় থেকে কমিশন অর্জনের ওপর ভিত্তি করে, তাই দর্শকদের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস অপরিহার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দ্বারা পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, স্রষ্টাদের প্রতি বিশ্বাস গত বছর তুলনায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফলাফলটি LTK-র জন্য আশাব্যঞ্জক, কারণ বিশ্বাসের অভাব হলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেলটি টিকে থাকতে পারে না। সমীক্ষার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ব্যবহারকারীরা এখন এমন কন্টেন্টকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন যা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও মানবিক সংযোগের ওপর ভিত্তি করে।
কন্টেন্টের প্রতি এই পরিবর্তনশীল মনোভাবের পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অ্যালগরিদমের উন্নতির ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি বিষয়বস্তু বাজারে প্রবেশ করেছে, তবে ব্যবহারকারীরা তা থেকে দূরে সরে বাস্তব মানুষদের তৈরি কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে স্রষ্টারা তাদের ব্যক্তিগত গল্প, অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করে দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তুলতে পারছেন। এই প্রবণতা ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা এখন এমন স্রষ্টা নির্বাচন করতে চায় যারা সত্যিকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখে।
বাজারের প্রবণতা অনুসারে, প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তাদের (CMO) ৯৭ শতাংশই ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এটি নির্দেশ করে যে ব্র্যান্ডগুলো এখনও স্রষ্টাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে চায়, তবে তারা এখন আরও বেশি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ স্রষ্টা নির্বাচন করতে চায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্রষ্টাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম।
প্যাট্রিয়ন নামক প্ল্যাটফর্মের সিইও জ্যাক কন্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বহু বছর আগে থেকেই অ্যালগরিদমের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছিলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে স্রষ্টাদের জন্য ফলোয়ার সংখ্যা নয়, বরং দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ ও বিশ্বাসই মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তন স্রষ্টা ইকোসিস্টেমের কাঠামোকে পুনর্গঠন করছে, এবং ভবিষ্যতে কন্টেন্টের গুণমান ও প্রামাণিকতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যালগরিদমের আধিপত্যে সামাজিক মিডিয়ার পরিবেশ বদলে গেছে, এবং স্রষ্টাদের জন্য অনুসারীর সংখ্যা আর প্রধান সূচক নয়। পরিবর্তে, তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলছে, যা ব্র্যান্ডের জন্যও মূল্যবান। বিশ্বাসের বৃদ্ধি এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বাজেটের সম্প্রসারণ এই প্রবণতাকে সমর্থন করছে, যা স্রষ্টা ও ব্র্যান্ড উভয়ের জন্যই নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করছে।



