বাংলাদেশের দিল্লি হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দু’সপ্তাহের উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডাকা হয়। তিনি সোমবার রাতেই দেশের রাজধানীতে পৌঁছান, যেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ত্বরিত নির্দেশের পরে অবিলম্বে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেন।
হাইকমিশনারের এই দ্রুত পদক্ষেপের পেছনে দুই দেশের মধ্যে সংখ্যালঘু বিষয়ক তথ্যের পারস্পরিক বিরোধ এবং ভারতের বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর বর্ণনা রয়েছে। শেষ দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সরকারী ও অ‑সরকারি সূত্র থেকে নানা অভিযোগ উঠে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে।
ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশি মিশনগুলোর সামনে প্রতিবাদ চালায় এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপগুলোকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘু সমস্যার ওপর ভিত্তি করে গৃহীত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে তা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দুই দেশের হাইকমিশনারের পারস্পরিক তলবের ঘটনা ঘটে, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রথমবারের মতো দু’দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের একে অপরকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। এই ঘটনাটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির সূচক হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয় এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।
গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ‘২,৯০০ সহিংসতার’ অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংখ্যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগকে তুলে ধরে।
এরপর রোববারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম জয়সোয়ালের মন্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খণ্ডন করেন এবং ভারতের বিভিন্ন মহলে সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভ্রান্তিকর বর্ণনা ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান। আলমের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, এই ধরনের তথ্যের অপব্যবহার দু’দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
উপরোক্ত বিবাদ এবং পারস্পরিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, দিল্লি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডাকা হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ দেশের কূটনৈতিক দপ্তরে উপস্থিত হন, যেখানে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা নির্ধারিত হয়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, রিয়াজ হামিদুল্লাহর দ্রুত প্রত্যাবর্তন এবং উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপের পুনরারম্ভ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সংখ্যালঘু বিষয়ক তথ্যের সঠিকতা এবং মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবের নিয়ন্ত্রণ না হলে ভবিষ্যতে আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল নির্ভর করবে উভয় দেশের সরকার কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না হলে, পরবর্তী সময়ে আরও উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।



