ফ্লোরিডার মার‑এ‑লাগোতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি তেহরান তার পারমাণবিক ক্ষমতা বা ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা পুনরায় গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে তা থামাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই মন্তব্যের পটভূমিতে জুন মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক সুবিধা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে রিপোর্ট হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের পুনর্নির্মাণের ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরান যদি আবার পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে তা ধ্বংস করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, “যদি তারা আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করে, আমরা তাদের ধ্বংস করব”—এটি তার পূর্ববর্তী নীতি অনুসরণে একটি স্পষ্ট সংকেত। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থান পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা রোধ করা।
জুনের আকাশ হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক সুবিধা লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই আক্রমলকে ট্রাম্প পূর্বে “সফল” বলে উল্লেখ করেছেন এবং ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের বর্তমান মন্তব্যকে এই পূর্বের আক্রমলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার‑এ‑লাগোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেটানিয়াহু ও ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পুনর্ব্যক্ত হয়। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “অত্যন্ত বিজয়ী” হয়েছে গাজা ও লেবাননের সংঘাতসহ জুনের আক্রমলেও। এই মন্তব্যে তিনি উভয় দেশের সামরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির সমন্বয়কে জোর দেন।
প্রশ্ন করা হলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি আক্রমণকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করবে কিনা, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে হ্যাঁ উত্তর দেন। তিনি বলেন, “যদি তারা ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়ে যায়, আমরা তা সমর্থন করব” এবং “এটি তৎক্ষণাৎ করা হবে”। এই উত্তর ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন নির্দেশ করে। ট্রাম্পের এই অবস্থান ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। ইরান যদি পুনর্নির্মাণের সংকেত দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বাড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্থির করতে পারে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া সম্ভব, যা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আক্রমণকে ত্বরান্বিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমঝোতা ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। যদি ইরান পুনর্নির্মাণের পথে অগ্রসর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বাস্তবায়িত হতে পারে, অথবা কূটনৈতিক চাপে নতুন সমঝোতা হতে পারে। নেটানিয়াহু ও ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারে উভয় দেশের কৌশলগত সমন্বয় স্পষ্ট, যা ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের মন্তব্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়, এবং ইসরায়েলকে সম্ভাব্য আক্রমণে তৎক্ষণাৎ সহায়তা নিশ্চিত করে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করতে পারে।



