২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে তহবিলের প্রবাহ বিশাল ছিল, বহু কোম্পানি বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। এই সময়ে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে এআইকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে বছরের শেষের দিকে শিল্পের মধ্যে সতর্কতা বাড়তে শুরু করে, যা “ভাইব চেক” নামে পরিচিত।
২০২৫ সালে ওপেনএআই ৪০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে, যার পরবর্তী মূল্যায়ন ৩০০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারিত হয়। এই রাউন্ডটি সফটব্যাংকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং এতে অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিরও অংশগ্রহণ রয়েছে। কোম্পানি বর্তমানে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ৮৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য রাখে এবং আগামী বছর আইপিওতে এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের আশায়।
একই সময়ে সেফ সুপারইন্টেলিজেন্স এবং থিঙ্কিং মেশিন ল্যাবস প্রত্যেকটি দুই বিলিয়ন ডলার সিড রাউন্ড সংগ্রহ করে, যদিও তারা এখনও কোনো পণ্য বাজারে আনেনি। এই পরিমাণের তহবিল প্রথমবারের প্রতিষ্ঠাতাদের জন্যও অস্বাভাবিক, যা পূর্বে শুধুমাত্র বড় টেক জায়ান্টদেরই পাওয়া যেত। তহবিলের এই প্রবাহ নতুন স্টার্টআপগুলোকে দ্রুত স্কেল করতে সহায়তা করেছে।
মেটা কর্পোরেশনও এআই প্রতিভা সংগ্রহে বিশাল ব্যয় করেছে; স্কেল এআইয়ের সিইও আলেকজান্ড্র ওয়াংকে নিয়োগে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। তদুপরি, মেটা অন্যান্য এআই ল্যাব থেকে বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এই পদক্ষেপগুলো মেটার এআই গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এআই শিল্পের শীর্ষ খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার পরিকাঠামো ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ব্যয় মূলত ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত হবে। বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগের ফলে শিল্পের গতি ত্বরান্বিত হলেও একই সঙ্গে আর্থিক স্থায়িত্বের প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
বছরের প্রথমার্ধে বিনিয়োগের তীব্রতা এবং আগ্রহ পূর্ব বছরের সঙ্গে তুলনীয় ছিল, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বাস এখনও বজায় আছে, তবু বুদবুদ ফাটার ঝুঁকি, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগগুলো শিল্পের মধ্যে আরও কঠোর মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের বৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে সক্ষম হতে হবে, নতুবা অতিরিক্ত ব্যয় তাদের আর্থিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। ডিপসিকের পরবর্তী পর্যায়ে স্কেলিংয়ের জন্য বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে কি, এবং কোন ব্যবসায়িক মডেল এই বিশাল বিনিয়োগের কিছু অংশই ফেরত দিতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এই প্রশ্নগুলোই শিল্পের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওপেনএআইয়ের মূল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অ্যামাজনের নাম উল্লেখযোগ্য; কোম্পানিটি ক্লাউড কম্পিউটিং ক্ষমতা সমর্থনকারী চক্রাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিশ্চিত করে। এই ধরনের চুক্তি এআই সেবার স্কেল বাড়াতে এবং খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এআই শিল্পে “বুদবুদ” নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরও তীব্র হয়েছে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, মডেলের পক্ষপাত এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাসের জন্য আরও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা চায়।
সারসংক্ষেপ



