প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামিম আহমেদ গতকাল পল্টানে অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও দেশের প্লাস্টিক শিল্প দৃঢ় অবস্থায় রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার (IPF) এর ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রদান করা হয়।
শামিম আহমেদ উল্লেখ করেন যে, অতীতের তুলনায় প্লাস্টিক সেক্টরের পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। একসময় কেবল গৃহস্থালী পণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাক던 শিল্প এখন ৬০টিরও বেশি শিল্পের জন্য অপরিহার্য ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ হিসেবে কাজ করছে, যার মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল, কৃষি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের চাহিদা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ারের ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, প্রথম মেলা ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় এবং তখনকার রাষ্ট্রপতি হুমায়ুন মুহাম্মদ এরশাদ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০২ সালে মেলা পুনরায় চালু হয় এবং তখন থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান প্লাস্টিক শিল্পের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
আসন্ন ১৮তম IPF ২০২৬ সালের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB) তে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই মেলায় বিদেশি অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হবে।
২০২৫ সালের কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশের পরেও প্লাস্টিক শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। শামিম আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশে ৪,০০০টিরও বেশি প্লাস্টিক-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যার বেশিরভাগই ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B) সেক্টরে কাজ করে।
অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্যপদে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বিশেষ করে কৃষি প্লাস্টিক, প্যাকেজিং এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-গ্রেড উপকরণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের উত্সাহকে নির্দেশ করে। এই প্রবণতা শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়ক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
শামিম আহমেদ সরাসরি রপ্তানি থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই পরিমাণে প্লাস্টিক পণ্যের সরাসরি রপ্তানি অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের বাণিজ্যিক সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
অপরদিকে, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং শিল্পের মাধ্যমে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার পরোক্ষ রপ্তানি হয়। এই পরোক্ষ রপ্তানি মূলত প্লাস্টিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পণ্য থেকে উদ্ভূত, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
শামিম আহমেদ নীতি নির্ধারকদের কাছে অনুরোধ করেন যে, পরোক্ষ রপ্তানিকে জাতীয় ডেটায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই রপ্তানি হিসাবেও গণনা করা হয়, তবে প্লাস্টিক শিল্পের মোট রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে।
এছাড়া, তিনি সরকারকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার আহ্বান জানান, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে বিলম্বিত প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির জন্য। এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন শিল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, শামিম আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্লাস্টিক শিল্পের বৃদ্ধির গতি ধীর নয় এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত রপ্তানি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ারের সফল আয়োজন এবং সরকারী সহায়তা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মূল চাবিকাঠি হবে।



