হলিউডের বিশিষ্ট পরিচালক জেমস ক্যামেরন সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘এ হাউস অব ডাইনামাইট’ এর সমাপ্তি সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি সিরিজের শেষ দৃশ্যকে সমর্থন করে বলেন, এটি একমাত্র যুক্তিসঙ্গত সমাপ্তি। এই মন্তব্যের পেছনে ক্যামেরন এবং সিরিজের পরিচালক ক্যাথরিন বিগেলোর সাম্প্রতিক এক ডিনারের আলোচনা ছিল।
ক্যামেরন ও বিগেলো দুজনের বন্ধুত্ব, পূর্বের বিবাহ এবং বহু যৌথ প্রকল্পের ইতিহাস এই কথোপকথনের ভিত্তি গঠন করে। ডিনারের সময় ক্যামেরন বিগেলোকে জানান, তিনি শেষ দৃশ্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং এটিকে একমাত্র সম্ভাব্য সমাপ্তি হিসেবে দেখেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাসিক ছোট গল্প ‘দ্য লেডি অর দ্য টাইগার?’ এর মতোই, শেষের দরজা কোনটি খুলবে তা অজানা থাকলেও গল্পের মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নে থাকে। শেষের দৃশ্যের মূল উদ্দেশ্য হল, শূন্য মিনিটে মিসাইল উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে পুরো ঘটনাপ্রবাহে কোনো ইতিবাচক ফলাফল নেই, তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা।
ক্যামেরন বলেন, মিসাইল উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে সনাক্তকরণ পর্যন্ত সবকিছুই একধরনের অপ্রতিরোধ্য বিপদের সূচনা। সিনেমা দুই ঘণ্টা ধরে এই অপ্রতিরোধ্যতা দেখিয়ে দেয় যে কোনো ভাল ফলাফল কল্পনা করা যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন অস্ত্রের অস্তিত্বই মানবজাতির জন্য হুমকি।
তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পারমাণবিক আক্রমণ চালানোর অনুমতি পায়, তা আক্রমণমূলক হোক বা প্রতিরক্ষামূলক। এই একক সিদ্ধান্তের ওপর পুরো পৃথিবীর মানুষের জীবন নির্ভরশীল। তাই ভোটের সময় এই বাস্তবতা স্মরণ করা দরকার।
ক্যামেরন ‘ওয়ার গেমস’ ছবির শেষের লাইনটি উদ্ধৃত করে বলেন, “জয়ী হওয়ার একমাত্র উপায় হল না খেলা।” তিনি এই কথাটিকে ‘এ হাউস অব ডাইনামাইট’ এর সমাপ্তির সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে কোনো সমাধান না দেখিয়ে কেবলমাত্র অশান্তি ও অনিশ্চয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
পারমাণবিক হুমকি সম্পর্কে ক্যামেরনের সতর্কতা তার চলচ্চিত্র কর্মজীবনে বহু বছর ধরে দেখা যায়। ১৯৮৪ সালের ‘দ্য টার্মিনেটর’ থেকে শুরু করে ‘টার্মিনেটর ২: জাজমেন্ট ডে’, ‘দ্য এবিস’ এবং ‘ট্রু লাইজ’ পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক যুদ্ধের বিপদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন।
এই চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, মানবিক দুর্বলতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক সম্ভাবনা একসাথে উপস্থাপন করেছেন। তার কাজগুলো দর্শকদের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা জাগিয়ে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্যামেরন চার্লস পেলেগ্রিনোর ‘গোস্টস অব হিরোশিমা’ বইয়ের অধিকার অর্জন করেছেন, যা হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক ধ্বংসের ইতিহাসকে বিশদভাবে বর্ণনা করে। এই পদক্ষেপটি তার পারমাণবিক বিষয়ক গবেষণা ও সচেতনতা প্রচারের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
সারসংক্ষেপে, ক্যামেরন ‘এ হাউস অব ডাইনামাইট’ এর শেষ দৃশ্যকে একমাত্র যুক্তিসঙ্গত সমাপ্তি হিসেবে সমর্থন করেন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্বের বিপদকে পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছাতে চান যে, মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে কিভাবে আমরা এই হুমকিকে মোকাবেলা করি।
অবশেষে, তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেন, পরবর্তী নির্বাচনে পারমাণবিক নীতি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এই বার্তা তার চলচ্চিত্র ও সাম্প্রতিক মন্তব্যের মাধ্যমে জনমত গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



