সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে রবিবারের প্রতিবাদে গুলিবর্ষণ এবং হ্যান্ড গ্রেনেডের ব্যবহার ঘটেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই প্রতিবাদগুলো আলাওয়ী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে গঠিত, যা হোমসের একটি আলাওয়ী মসজিদে বোমা হামলার পরিণতিতে উন্মোচিত হয়েছে।
লাটাকিয়ার আল-আজহারি রাউন্ডআবাউটে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলি চালানো হয়েছে, আর তর্তুসের বানিয়াস জেলায় আল-আনাজা পুলিশ স্টেশনে অজানা আক্রমণকারীরা হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ক্ষতি করেছে। উভয় ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়কাল ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদগুলো হোমসের ওয়াদি আল-দাহাব পাড়ায় ইমাম আলি বিন আবি তলিব মসজিদে শুক্রবারের প্রার্থনা সময়ে বোমা হামলার পর শুরু হয়। এই হামলায় কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। মসজিদটি আলাওয়ী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কেন্দ্র হওয়ায় এই আক্রমণকে সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক ও রাগের উদ্রেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আক্রমণের দায়িত্ব স্বীকার করেছে স্যারায়া আনসার আল-সুন্না নামের একটি অল্প পরিচিত গোষ্ঠী, যা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে জানিয়েছে যে লক্ষ্য ছিল আলাওয়ী সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধ্বংস করা। গোষ্ঠীটি পূর্বে জুন মাসে দমাস্কের একটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে বিশজনের মৃত্যু ঘটানোর দায়িত্ব নিয়েছিল।
সিরিয়ার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো পূর্বে আলাওয়ী সম্প্রদায়ের অধিকাংশের হাতে ছিল, বিশেষ করে বশার আল-আসাদের শাসনকালে। তবে ডিসেম্বর ২০২৪-এ আল-আসাদের শাসন পতনের পর থেকে মধ্যস্থ সরকার গঠন করা হয়েছে, যা এখনও দেশের ঐক্য রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে।
সরকারি পক্ষ থেকে মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে যে এটি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুন্ন করার এবং সিরিয়ার জনগণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের আক্রমণকে ‘বিপর্যয়কর প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত এক বছরে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সেক্টারিয়ান সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। লাটাকিয়া, তর্তুস এবং হোমসের মতো শহরে বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ এবং গ্রেনেডের ব্যবহার ঘটেছে, যা মধ্যস্থ সরকারের ক্ষমতা ও দেশের ঐক্য বজায় রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবাদগুলোকে সংগঠিত করার পেছনে আলাওয়ী ধর্মীয় নেতা গাজাল গাজালের আহ্বান কাজ করেছে, যিনি সিরিয়ার বাইরে বসবাস করেন এবং ‘সুপ্রিম আলাওয়ী ইসলামিক কাউন্সিল ইন সিরিয়া অ্যান্ড অ্যাব্রড’ নামের সংস্থার প্রধান। গাজাল গাজাল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলে ধরেছেন।
প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তা গ্যারান্টি, ন্যায়সঙ্গত বিচার এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে সিরিয়ার মধ্যস্থ সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের পুনর্বিবেচনা চাচ্ছেন। তারা বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আস্থা পুনর্গঠন এবং আলাওয়ী সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে জোর দিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। মধ্যস্থ সরকারকে এখনো ১৪ বছর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর দেশের সংহতি রক্ষার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর আলাওয়ী সম্প্রদায়ের দাবিগুলোকে কীভাবে সমন্বয় করা হবে তা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি মধ্যস্থ সরকার এই দাবিগুলোকে উপেক্ষা করে বা যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে উপকূলীয় অঞ্চলে সেক্টারিয়ান উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে, যদি সরকার সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে, তবে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রয়েছে, যেখানে বহু দেশ ও সংস্থা মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শত্রুতা এখনও সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।



