ফ্লোরিডার মার‑আ‑লাগোতে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা শেষ করেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়, তবে জেলেনস্কি ৫০ বছরের গ্যারান্টি দাবি করেন। উভয় নেতাই শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রগতি ঘটার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা গ্যারান্টির সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
মার‑আ‑লাগোতে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনার প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জেলেনস্কি তদুপরি জানান, তিনি ৫০ বছরের গ্যারান্টি না পেলে চুক্তি স্বাক্ষরের পরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না বলে মনে করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশের পুনরায় আক্রমণের ঝুঁকি থাকলে যুদ্ধকে শেষ বলে ধরা যাবে না।
শান্তি পরিকল্পনার ২০ ধাপের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে জেলেনস্কি এবং ট্রাম্পের মতামত একমত হয়েছে বলে উভয় পক্ষই জানায়। তবে দুইটি মূল বিষয় এখনও সমাধান হয়নি: ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে ভূখণ্ড প্রত্যাহারের প্রশ্ন। এই দুই বিষয়ের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পূর্ণ বলা যাবে না।
মস্কো সম্প্রতি দোনেটসক এবং লুহানস্ক অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে; দুটো অঞ্চল একসঙ্গে ডনবাস নামে পরিচিত। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ডনবাস সংক্রান্ত চুক্তি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, তবে চুক্তি শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কিয়েভ যখন চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করবে, তখনই নিরাপত্তা গ্যারান্টি কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের মতে, শান্তি চুক্তি এখনো শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০, ৪০ বা ৫০ বছরের মতো দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেন, তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, জেলেনস্কি নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া যুদ্ধের সমাপ্তি স্বীকার করা সম্ভব নয় বলে পুনরায় জোর দেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার পুনরায় আক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা অনুচিত হবে। এই অবস্থান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদী গ্যারান্টি প্রদান করার আহ্বান জানান।
দুই নেতার আলোচনার মূল লক্ষ্য হল ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধান খোঁজা। যদিও নিরাপত্তা গ্যারান্টির সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, তবে উভয় পক্ষই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরই গ্যারান্টি কার্যকর হবে বলে একমত। ভবিষ্যতে কীভাবে এই গ্যারান্টি বাস্তবায়িত হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামো কী রকম হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।



