জার্মানির ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লিয়া শুল্লার ১ জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেবে। ব্যায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে তার চুক্তির শেষ ছয় মাস বাকি থাকলেও, তিনি অজানা টাকার বিনিময়ে ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন। তিন-ও-অর্ধ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করে তিনি নতুন পরিবেশে পা রাখছেন।
শুল্লার গার্ডিয়ান সংবাদদাতা অনুসারে, তার মেডিক্যাল পরীক্ষা ডিসেম্বরের শুরুতে সম্পন্ন হয় এবং ক্লাবের অনুমোদন পায়। এই স্থানান্তরটি ইউনাইটেডের গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষের দিকে ঘটছে, যা দলকে আক্রমণাত্মক বিকল্প যোগায়। চুক্তির শর্তাবলী প্রকাশ না করা হলেও, উভয় পক্ষই এই চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে।
জার্মানির জাতীয় দলে শুল্লার ৮২ ম্যাচে ৫৪ গোলের রেকর্ড রাখে, যা তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্কোরার করে তুলেছে। ব্যায়ার্নে তার পাঁচ বছর ছয় মাসের সময়কালে ১০০টিরও বেশি গোলের নাম লিখেছেন, যা ক্লাবের ইতিহাসে তার অবদানের প্রমাণ। তার এই গৌরবময় পারফরম্যান্সই ইউনাইটেডকে আকৃষ্ট করেছে।
শুল্লার ক্লাবের মিডিয়া চ্যানেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, “প্রথম কথোপকথন থেকেই কোচ মার্ক স্কিনারের দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্লাবের লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল। আমি এখনও আমার ক্যারিয়ারে অনেক কিছু অর্জন করতে চাই এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই সেই লক্ষ্য পূরণের সঠিক স্থান।” তিনি দলের খেলাধুলার ধরনকে নিজের স্টাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে, ইংলিশ লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য অর্জনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের নারী ফুটবল বিভাগের পরিচালক বিয়াঙ্কা রেচও শুল্লারের বিদায়ের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “লিয়া আমাদের জন্য বহু বছর অবদান রেখেছেন, তার কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভা ক্লাবকে সমৃদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে তার জন্য শুভকামনা জানাই।” এই মন্তব্যটি শুল্লারের নিজস্ব ধন্যবাদসূচক বার্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে তিনি মিউনিখকে “নিজের বাড়ি” বলে বর্ণনা করেছেন।
শুল্লার তার বিদায়ের বার্তায় ব্যায়ার্নের প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “দল ও ক্লাব আমার জন্য দ্বিতীয় পরিবারের মতো। এখানে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব আজীবন টিকে থাকবে, তাই এই পদক্ষেপটি আমার জন্য কঠিন।” তিনি মিউনিখে কাটানো সময়কে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে স্মৃতিগুলোকে স্নেহের সঙ্গে সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইউনাইটেডের জন্য শুল্লারের আগমন আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়াবে, বিশেষ করে উইংস ও ফরোয়ার্ড লাইনকে শক্তিশালী করবে। কোচ স্কিনার ইতিমধ্যে তার গতি ও গোল করার ক্ষমতা প্রশংসা করে, তাকে দলের কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। শুল্লারকে যুক্ত করে দলটি ইংলিশ সুপার লিগ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুল্লারের এই চুক্তি ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক ট্রান্সফার নীতির ধারাবাহিকতা, যেখানে ক্লাব অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়কে দলে যুক্ত করে শক্তি বাড়াতে চায়। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া বিশ্লেষকরা দলটির আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছেন, যদিও চূড়ান্ত ফলাফল মাঠে নির্ভর করবে।
শুল্লারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যায়ার্নে অর্জিত শীর্ষ পারফরম্যান্স তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য মূল্যবান সম্পদ করে তুলবে। তার গতি, শুটিং দক্ষতা ও ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা দলকে বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুবিধা দেবে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গন্তব্য অর্জনের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউনাইটেডের ফ্যানবেস শুল্লারের আগমনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, সামাজিক মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও তার প্রোফাইল আপডেট করা হয়েছে, যেখানে তার ক্যারিয়ার হাইলাইট ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
শুল্লার নিজে বলছেন, “আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উত্তেজিত। এখানে আমার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে চাই।” তার এই উচ্ছ্বাস দলকে ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে কাজ শুরু করতে সহায়তা করবে।
শুল্লারের স্থানান্তরটি আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলবে। তার পারফরম্যান্স কীভাবে ইউনাইটেডের গেমপ্লে পরিবর্তন করবে, তা আগামী মৌসুমে স্পষ্ট হবে।



