১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি আগামী বছর নির্ধারিত হওয়ায়, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আজ পর্যন্ত ২,৫৮২ জন প্রার্থী তাদের নামের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এই আবেদনপত্রগুলো দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য দাখিল করা হয়েছে এবং আজ সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত শেষ সময়সীমা ছিল।
নাম লেখার শেষ দিনটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ধাকা জেলার ৪১টি আসনে ৪৪৪টি আবেদনপত্র জমা দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী প্রদান করেছে। অন্যদিকে, ফরিদপুর জেলার ১৫টি আসনে মাত্র ১৪২টি আবেদনপত্র জমা হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন সংখ্যা।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে ৩,৪০৭ জন প্রার্থী ইতিমধ্যে আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছিল। আজকের শেষ সময়সীমা পূরণে, সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের আবেদনপত্র জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জমা দিয়েছেন।
এই প্রক্রিয়ায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোও তাদের প্রার্থী তালিকা পূর্ণ করে, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যার তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সব দলই তাদের প্রার্থী সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সময়ে নতুন সদস্য যোগ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পার্টিতে যোগদান করে, তাকে দলের মুখপাত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তার যোগদান পার্টির সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনসিপি-র এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে, অন্যান্য দলও তাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নতুন কৌশল প্রণয়ন করছে। কিছু দল নতুন মুখের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, আবার কিছু দল অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা আজ সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত ছিল এবং সকল আবেদনপত্র রিটার্নিং অফিসারদের কাছে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে, কমিশন আবেদনপত্রের বৈধতা যাচাই করে, প্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
প্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হলে, পরবর্তী ধাপ হবে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ। এই কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর, ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পর্যায়ে প্রার্থীর সংখ্যা ও তাদের বিতরণ নির্বাচন ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ধাকা জেলার উচ্চ সংখ্যক আবেদনপত্র দেখায় যে শহুরে এলাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় প্রার্থীর সংখ্যা কম। এই পার্থক্য পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, ফরিদপুরের মতো নিম্ন সংখ্যক আবেদনপত্রের অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় নেতাদের প্রভাব বেশি হতে পারে, যা ভোটারদের পছন্দে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায়, নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়াবে। ভোটার তালিকা প্রকাশের পর, পার্টিগুলোকে তাদের প্রচারণা পরিকল্পনা সমন্বয় করতে হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
সংক্ষেপে, ২,৫৮২ জন প্রার্থীর নামের আবেদনপত্র জমা, ধাকায় সর্বোচ্চ, ফরিদপুরে সর্বনিম্ন, এবং এনসিপি-তে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নতুন ভূমিকা, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড়ে নিয়ে যাবে। এখন থেকে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সকল দলই তাদের কৌশল পরিমার্জন করবে এবং ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।



