২০২৫ সালের শেষের দিকে MIT Press থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান‑সাহিত্যিক বই ‘Crush’ লেখক জেমস রিওর্ডানের হাতে রচিত, যার মূল্য প্রায় ৪০ ডলার। এই গ্রন্থটি গুরুত্বাকর্ষণকে কেন্দ্র করে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে, এবং দৈনন্দিন জীবনে ও মহাজাগতিক পর্যায়ে এর প্রভাব তুলে ধরে।
১৭শ শতকের ইংরেজ বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন গুরুত্বের প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও, তিনি গুরুত্বের সার্বজনীন সূত্র প্রণয়ন করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে গুরুত্ব কীভাবে কাজ করে এবং কেন সবকিছু তা মেনে চলে, তা তার সময়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। রিওর্ডান এই ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে বর্তমান গবেষণার দিকে দৃষ্টিপাত করে গুরুত্বের রহস্যময় দিকগুলোকে উন্মোচন করেন।
রিওর্ডান উল্লেখ করেন গুরুত্বকে সবচেয়ে পরিচিত কিন্তু একই সঙ্গে সবচেয়ে অজানা শক্তি হিসেবে। তিনি বিজ্ঞানকে সহজবোধ্য করতে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান এবং ইতিহাসের উদাহরণ ব্যবহার করেন, যেখানে হাস্যরসাত্মক স্বর পাঠকের মনোযোগ বজায় রাখে এবং জটিল ধারণাকে স্বাভাবিক করে তোলার ভূমিকা রাখে। এই পদ্ধতি বইকে শুধুমাত্র একাডেমিক নয়, সাধারণ পাঠকের জন্যও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গুরুত্ব আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রায় অদৃশ্যভাবে কাজ করে; আমরা সাধারণত তা অনুভব করি না, তবে লিফটে হঠাৎ থেমে যাওয়া বা উঠা‑নামার সময় তা স্পষ্ট হয়। রিওর্ডান ব্যাখ্যা করেন গুরুত্ব কীভাবে প্রাণীর শারীরিক গঠনকে প্রভাবিত করে, উদাহরণস্বরূপ সাপের হৃদয় গুরুত্বের দিকনির্দেশে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থিত থাকে, যা তার রক্ত সঞ্চালনকে কার্যকর করে।
গুরুত্বের আকর্ষণীয় শক্তি বড় প্রাণীর আকারকে সীমাবদ্ধ করে। যদি কোনো প্রাণী অতিরিক্ত বড় হয়, তার হাড় ও পেশি গুরুত্বের ভার বহন করতে পারে না, ফলে চলাচল ও বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যায়। এই সীমা নির্ধারণ করে যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ আকারের স্থলজ প্রাণী কী হতে পারে এবং কেন সমুদ্রের বিশাল প্রাণী গুরুত্বের প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত থাকে।
মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে মহাকাশচারীরা শারীরিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হন। ওজনহীন অবস্থায় পেট ফোলে, ইন্দ্রিয়ের তীক্ষ্ণতা কমে, হাড় ও পেশি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়, এবং রক্ত সঞ্চালনে পরিবর্তন দেখা যায়। রিওর্ডান এই পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্বের অনুপস্থিতির সরাসরি ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়।
গ্রহের গুরুত্বের শক্তি তার বাসযোগ্যতার মূল নির্ধারক। একটি গ্রহের ভর যথেষ্ট বড় হলে তা বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে, ফলে তরল জল উপস্থিতি সম্ভব হয় এবং জীবনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে। অপরদিকে, গুরুত্বের অভাব বা অতিরিক্ত শক্তি গ্রহের বায়ু হারিয়ে ফেলতে পারে, যা জীবনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
রিওর্ডান এমন গ্রহের কথাও আলোচনা করেন যেগুলো কোনো নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরে না, অর্থাৎ রগ প্ল্যানেট। যদিও তারা সূর্যের তাপ পায় না, তবু গুরুত্বের মাধ্যমে গঠনগত তাপ ও রেডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয় থেকে উৎপন্ন তাপকে ঘন বরফের নিচে আটকে রাখতে পারে,



