19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরাকের নতুন পার্লামেন্ট প্রথম অধিবেশনে হায়বাত আল‑হালবৌসি স্পিকার নির্বাচিত

ইরাকের নতুন পার্লামেন্ট প্রথম অধিবেশনে হায়বাত আল‑হালবৌসি স্পিকার নির্বাচিত

ইরাকের সদ্য নির্বাচিত পার্লামেন্ট সোমবার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত করে, যেখানে হায়বাত আল‑হালবৌসি স্পিকার পদে নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আল‑হালবৌসি ২০৮ ভোট পেয়ে স্পিকার হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন, আর তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী যথাক্রমে ৬৬ ও ৯ ভোট পেয়েছেন।

হালবৌসি তাকাদ্দুম (প্রগতি) পার্টির সদস্য, যা দেশের পশ্চিম ও উত্তরের সুন্নি অধিকাংশ এলাকা থেকে সমর্থন পায়। নতুন পার্লামেন্টকে ইরাকের প্রতিনিধি পরিষদ (কাউন্সিল অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) বলা হয় এবং নভেম্বর ১১ তারিখের নির্বাচনের পর থেকে দেশের শাসন কাঠামো নিয়ে জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।

ইরাকের প্রচলিত মুহাসাসা পদ্ধতি অনুসারে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে একজন সুন্নি প্রার্থী এবং দুজন ডেপুটি নির্বাচন করা হয়। এরপর কুর্দি প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, আর রাষ্ট্রপতি সর্ববৃহৎ শিয়া ব্লক, শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এসসিএফ) থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন করেন।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সভাপতি ফাইক জাইদান সকল আইনসভার সদস্যকে সংবিধানিক সময়সীমা মানতে আহ্বান জানান; নতুন সরকার গঠন সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট (এফএসসি) ফলাফল দ্রুত স্বীকৃতি দেয়, যা সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়।

যদিও আদালতের দ্রুত স্বীকৃতি ইতিবাচক চিহ্ন, তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক মাসের বেশি সময় নেয়। ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া ৩০০ দিনের বেশি সময়ে শেষ হয়। বর্তমানে শিয়া কো‑অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের প্রধান প্রার্থী কে হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল‑সুদানি চার বছর আগে এসসিএফের সমর্থনে মনোনীত হন। তবে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী জোট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন তালিকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং তার রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিশন (আরডিসি) ৩২৯ আসনের মধ্যে প্রায় ৪৬টি জয় করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।

এফএসসির একটি সিদ্ধান্তের পরে, আল‑সুদানির স্বাধীন তালিকার জয় নতুন রাজনৈতিক গতিপথ তৈরি করেছে, তবে প্রধানমন্ত্রী পদে কে আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন শুরু হবে, যা ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

ইরাকের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্পিকার হিসেবে হালবৌসির নির্বাচন মুহাসাসা পদ্ধতির প্রথা বজায় রাখে এবং সুন্নি সম্প্রদায়ের সমর্থনকে শক্তিশালী করে। তবে কুর্দি ও শিয়া ব্লকের সঙ্গে সমন্বয় কিভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোর মূল চাবিকাঠি হবে।

আসন্ন সপ্তাহগুলোতে পার্লামেন্টের দুই ডেপুটি, রাষ্ট্রপতি এবং শিয়া ব্লকের প্রধান প্রার্থী নির্বাচন হবে, যা নতুন সরকারের গঠনকে চূড়ান্ত করবে। এই প্রক্রিয়ার সময় যদি সংবিধানিক সময়সীমা অতিক্রম না হয়, তবে ইরাকের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবে।

সামগ্রিকভাবে, হালবৌসির স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে ইরাকের নতুন পার্লামেন্টের কাজের সূচনা হয়েছে এবং দেশের শাসন কাঠামো পুনর্গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments