বোলিউডের লেখক‑পরিচালক মানিশ গুপ্তা ২০১৭ সালে তার রচনা‑পরিচালনা প্রকল্প ‘সেকশন ৩৭৫’‑এ একশে খন্নারকে প্রধান চরিত্রে চুক্তিবদ্ধ করেন। একশের পারিশ্রমিক দুই কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল এবং তিনি প্রাথমিক অগ্রিম হিসেবে একুশ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। চুক্তিপত্রে উভয় পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
প্রযোজক কুমার মঙ্গাট পাথকও একই সময়ে ছবির আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে একশে খন্নার অন্য একটি রাজনৈতিক থ্রিলার ‘দ্য এক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’‑এর শুটিং সময়সূচি পরিবর্তন করে লন্ডনে যান, ফলে ‘সেকশন ৩৭৫’‑এর শুটিং ছয় মাসেরও বেশি সময়ের জন্য স্থবির থাকে। গুপ্তা ও তার কর্মী দল এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতিতে কাজের অগ্রগতি হারায়।
লন্ডন শুটিং শেষ করার পর একশে খন্নার ফিরে এসে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ দুই কোটি টাকার বদলে তিন কোটি পঁচিশ লাখ টাকা দাবি করেন। এই অতিরিক্ত অর্থের দাবি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের সমতুল্য এবং গুপ্তার সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের সূত্রপাত করে।
অর্থের পাশাপাশি একশে খন্নার ছবির সৃজনশীল দিকেও হস্তক্ষেপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি পুরো চলচ্চিত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চান এবং পরিচালকের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। গুপ্তা, যিনি স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, এই অনুরোধকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
গুপ্তার মতে, একশে খন্নার এই চাহিদা শুধুমাত্র আর্থিক নয়, বরং সৃজনশীল স্বায়ত্তশাসনের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, অধিকাংশ পরিচালক অভিনেতার ইচ্ছা মেনে চলেন, তবে তিনি নিজের নীতি বজায় রাখতে দৃঢ় ছিলেন।
কিন্তু প্রযোজক কুমার মঙ্গাট পাথক একশের অনুরোধে গুপ্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন। পাথক গুপ্তারকে পরিচালকের পদ থেকে বাদ দিয়ে, তার সম্পূর্ণ লিখিত স্ক্রিপ্ট ও সংশ্লিষ্ট ডেটা সংরক্ষিত হার্ডড্রাইভ জব্দ করেন। ফলে গুপ্তা প্রকল্পের মূল সৃজনশীল দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হন।
এই ঘটনার পাশাপাশি, কুমার মঙ্গাট পাথক সাম্প্রতিক সময়ে একশে খন্নার সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প ‘ড্রিশ্যম ৩’‑এ সমস্যার কথা প্রকাশ করেন। সেই আলোচনায় একশের অনুপযুক্ত আচরণের ফলে তাকে জাইদিপ আহলওয়াত দিয়ে বদলাতে হয়েছিল। গুপ্তার অভিযোগে এই ঘটনা ‘সেকশন ৩৭৫’‑এর পরিচালকের পদচ্যুতি সিদ্ধান্তের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সেকশন ৩৭৫’‑এর শুটিং পুনরায় শুরু হওয়ার পরেও গুপ্তার স্ক্রিপ্টের মূল কাঠামো পরিবর্তন না করে পরিচালকের পরিবর্তে একশে খন্নারকে প্রধান দায়িত্বে রাখা হয়। তবে প্রকল্পের সময়সূচি ও বাজেটের ওপর প্রভাবের কথা শিল্পের অভ্যন্তরে আলোচনা চালু রয়েছে।
বোলিউডে অভিনেতা ও পরিচালক মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রায়শই বিতর্কের বিষয় হয়ে থাকে। গুপ্তার এই অভিজ্ঞতা শিল্পের স্বচ্ছতা ও চুক্তি মান্যতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যেখানে কোনো পক্ষই একতরফা শর্ত পরিবর্তন করে না।



