১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম সম্প্রচারিত ‘All in the Family’ শোটি আমেরিকান টেলিভিশনের প্রাইম‑টাইমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। শোটি ১৯৭১ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত সাত বছর ধরে চলেছিল এবং রব রেইনারের ক্যারিয়ারের সূচনা বিন্দু হিসেবে কাজ করে। শোটি নরম্যান লিয়ার ও বাড ইয়র্কিনের সৃষ্টিকর্ম, যা ব্রিটিশ সিরিজ ‘Till Death Us Do Part’ থেকে অনুপ্রাণিত।
১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সময়, নেটওয়ার্ক টেলিভিশনে পরিবারিক বিনোদনের নিয়ম কঠোর ছিল। সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় শো ছিল সিবিএসের ‘Gomer Pyle, USMC’, যা ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ১৫০ এপিসোডে গৃহস্থালির টেবিলে হাসি এনে দিত। শোটি ‘The Andy Griffith Show’ থেকে স্পিন‑অফ হিসেবে শুরু হয় এবং জিম নাবোর্সের গোমার পাইল চরিত্রের চারপাশে ঘুরে বেড়াত।
‘Gomer Pyle’ শোতে গোমার পাইলের ক্যাম্প হেন্ডারসন, ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপদ পরিবেশে পাঁচ বছর কাটানোর গল্প দেখানো হলেও ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। শোটি জোর দিয়ে দেখাত যে, তখনকার টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলো যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে দূরে থাকা পছন্দ করত, যাতে পরিবারিক দর্শকরা কোনো অস্বস্তি না অনুভব করে।
এই সময়ে তিনটি প্রধান নেটওয়ার্ক শোয়ের বিষয়বস্তু নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করত এবং পরিবারিক বিনোদনকে ‘কোনো রকমের বিরক্তি না করা’ মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখত। তবে ‘All in the Family’ এই চুক্তি ভেঙে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যেখানে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
শোটি প্রথমবার যখন প্রাইম‑টাইমে আসল, তখন তা দর্শকদের জন্য এক ধরণের শক থেরাপি হয়ে ওঠে। পরিবারিক টেলিভিশনের ঐতিহ্যিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে, শোটি সরাসরি বর্ণনা করত আমেরিকান সমাজের বিভাজন, বর্ণবাদ ও লিঙ্গভূমিকা। এর ফলে টেলিভিশন কমেডি নতুন দিকনির্দেশনা পায় এবং দর্শকরা আরও বাস্তবসম্মত বিষয়বস্তু দেখতে শুরু করে।
টিম বুকস ও এরল মার্শের মতে, ‘All in the Family’ টেলিভিশন কমেডির দিক পরিবর্তন করেছে এবং পরবর্তী দশকের শোগুলোর জন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছে। শোটি শুধুমাত্র হাস্যরসের মাধ্যমে নয়, সামাজিক আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করেছে, যা পূর্বের শোগুলোতে দেখা যেত না।
শোটি মূলত ব্রিটিশ সিরিজ ‘Till Death Us Do Part’ থেকে রূপান্তরিত, তবে নরম্যান লিয়ার ও বাড ইয়র্কিনের সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ যুক্ত করে আমেরিকান সংস্কৃতিতে মানিয়ে নেয়া হয়। লিয়ার ও ইয়র্কিন দুজনই ১৯৫০-এর দশকের লাইভ ভ্যারাইটি শো, যাকে ‘ভৌডিয়ো’ বলা হতো, তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করতেন।
দুইজনের পরিচয় ঘটে ডিন মার্টিন ও জেরি লুইসের ‘The Colgate Comedy Hour’ (১৯৫০‑১৯৫৫) প্রোগ্রামের কাজের সময়। সেই সময়ে তারা একসাথে স্ক্রিপ্ট ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে কাজ করতেন, যা পরবর্তীতে ‘All in the Family’ শোয়ের সৃজনশীল ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
‘All in the Family’ শোতে রব রেইনারের চরিত্রটি দর্শকদের কাছে তৎকালীন সময়ে নতুন রকমের নায়ক হিসেবে পরিচিতি দেয়। শোয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে পরিচিতি পান এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে তার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তার পারফরম্যান্সকে দর্শকরা ‘প্রিয়’ ও ‘স্নেহের’ চরিত্র হিসেবে গ্রহণ করে।
শোটি মোট ১৪৯টি এপিসোডে শেষ হয় এবং ১৯৭১ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত সাত বছর ধরে প্রাইম‑টাইমের শীর্ষে অবস্থান করে। শোয়ের শেষের দিকে যদিও রেটিংয়ে কিছু হ্রাস দেখা যায়, তবু তার সাংস্কৃতিক প্রভাব অব্যাহত থাকে এবং পরবর্তী প্রজন্মের টেলিভিশন নির্মাতাদের জন্য রেফারেন্স পয়েন্ট হয়ে থাকে।
‘All in the Family’ শোটি টেলিভিশন ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত, যা পরিবারিক বিনোদনের সীমা প্রসারিত করে এবং সামাজিক বিষয়গুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করার নতুন পদ্ধতি গড়ে তুলেছে। আজকের বহু সিরিজে এই শোয়ের ছাপ দেখা যায়, এবং রব রেইনারের ক্যারিয়ারও এই শো থেকে শুরু হওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।



