ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ২৯ ডিসেম্বর কিয়েভে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার যে কোনো পরিকল্পনা চারটি প্রধান পক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন—ইউক্রেন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র। তিনি উল্লেখ করেন, এই শর্ত পূরণ না হলে কোনো চুক্তি বৈধতা পাবে না এবং যুদ্ধবিরতির ভিত্তি নষ্ট হবে।
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বললেন, ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তিতে উল্লিখিত চার পক্ষের স্বাক্ষরই একমাত্র বৈধতা প্রদান করবে। তিনি এই দাবি সব ধরনের আলোচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেন, তা হোক সামরিক অবসান, রাজনৈতিক সমঝোতা অথবা ভূখণ্ডগত সমন্বয়। তার মতে, একতরফা স্বাক্ষর বা সীমিত অংশগ্রহণ চুক্তির স্থায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করবে।
কিয়েভের সরকার দ্রুত চুক্তির পথে অগ্রসর হতে চায়, জেলেনস্কি এ বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শর্তগুলো পূরণ হলে আলোচনার গতি বাড়বে এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন সহজ হবে। তার মতে, সময়মতো স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা জেলেনস্কি স্বীকার করেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবকে স্বল্পমেয়াদী হিসেবে বিবেচনা করে, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপের সময় উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হওয়া উচিত, যাতে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও সীমানা রক্ষা করা যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি না পেলে ভবিষ্যতে পুনরায় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন।
ট্রাম্প জেলেনস্কির অনুরোধের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে, তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে বিবেচনা করবেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি, যা পরবর্তী আলোচনার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চার পক্ষের স্বাক্ষর চাহিদা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয়কে জোরদার করবে এবং চুক্তির বাস্তবায়নকে অধিক স্থিতিশীল করবে। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইউক্রেনের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে রাশিয়ার সম্ভাব্য পুনরায় আক্রমণ প্রতিরোধে।
পরবর্তী ধাপে, ইউক্রেন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে, যেখানে স্বাক্ষরের শর্ত, গ্যারান্টির সময়সীমা এবং চুক্তির কার্যকরী ধাপগুলো নির্ধারিত হবে। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।



