ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর – জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সোমবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, এখন পর্যন্ত ৪৭ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নির্ধারিত নয়। দলটি অতিরিক্ত কিছু আবেদনপত্র জমা দিয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে মোট প্রার্থীর সংখ্যা স্পষ্ট হবে বলে আশ্বাস দেয়।
এনসিপি ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের অংশ, যেখানে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলও অন্তর্ভুক্ত। জোটের আসন ভাগাভাগির ভিত্তিতে এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রাথমিকভাবে দলটি ১২৫টি আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন করলেও, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারণে অগ্রগতি স্থগিত রয়েছে।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে দলটি ব্যাখ্যা করে যে, প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত কিছু সদস্যকে এখনো চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং তাদের বিষয়গুলো সমন্বয় করে সমাধান করা হবে। নাহিদ ইসলাম, দলের আহ্বায়ক, উল্লেখ করেন যে, সব প্রার্থীর অধিকার রক্ষা করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা দলটির অগ্রাধিকার।
সেই সময়ে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এনসিপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন। নাহিদ ইসলাম ভুঁইয়ার যোগদানকে দলীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংযোগ দলকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। ভুঁইয়া এখন থেকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করবেন।
ভুঁইয়া বলেন, তিনি জুলাই ২০২৩-এ গৃহীত গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের সংসদে প্রবেশের জন্য কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, একক ব্যক্তির পরিবর্তে বহু সহযোদ্ধার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা তার প্রধান লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্যে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন। এছাড়া, তিনি জুলাই উত্থানে অংশ নেওয়া সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।
ভুঁইয়া আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো সহিংসতা ছাড়া বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হতে হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তিনি ভোটারদেরকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করেন, যাতে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গঠিত হয়।
এনসিপি এখন পর্যন্ত জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ও প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দলটি জোটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, আগামী সপ্তাহে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদেরকে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা হবে।
এই উন্নয়নগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এনসিপি যদি তার প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে পারে এবং জুলাই উত্থানের সহযোদ্ধাদের সমর্থন পায়, তবে জোটের মধ্যে তার প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, দলটির নতুন মুখ হিসেবে ভুঁইয়ার ভূমিকা নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে, নাহিদ ইসলাম এবং ভুঁইয়া উভয়ই দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও সংহতিপূর্ণ প্রক্রিয়া বজায় রাখার আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হবে এবং সকল রাজনৈতিক শক্তি একসাথে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।



