থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের পূর্বে, রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশ গার্ডের সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত তহবিল মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, উন্মুক্ত স্থানে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দোকানপাটের কার্যক্রমে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের ভোর পর্যন্ত সব বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে।
অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কিছু গোষ্ঠী পশ্চিমা সংস্কৃতি হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই বিশৃঙ্খলা রোধে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কর্মকাণ্ডের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে কোনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি সনাক্ত করা যায়নি। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি বিবেচনা করে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট‑২’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালু রয়েছে, যা নাশকতা ও ভঙ্গুরতা রোধে কাজ করবে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে, পটকা, আতশবাজি, ফানুস এবং অন্যান্য জ্বালানি সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
ডিএমপি গুলশান, বনানী এবং বারিধারা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে; স্থানীয়দের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকায় ফিরে আসতে হবে।
হাতিরঝিলের আশেপাশে সন্ধ্যাবেলা কোনো সমাবেশ বা যানবাহন পার্ক করা যাবে না। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়ানো।
পুলিশ সদর দপ্তর গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে ডিবি, র্যাব এবং সিআইডি সাইবার পেট্রোলিং বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া বা উস্কানিমূলক মন্তব্যের ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং দেশের অন্যান্য প্রধান পর্যটন গন্তব্যে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হবে।
গাড়ি চালানোর সময় অযথা উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো বা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা হলে আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। এই নিয়মের লঙ্ঘনকারীকে জরিমানা ও কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে কোনো অশান্তি না ঘটিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো রাতারাতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য লঙ্ঘনের ওপর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন নির্দেশনা বা আপডেট পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের জানাতে হবে।



