27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানকুকুরের খেলনা আসক্তি ও প্রাচীন বিড়ালের মানবিক সম্পর্কের নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

কুকুরের খেলনা আসক্তি ও প্রাচীন বিড়ালের মানবিক সম্পর্কের নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

২০২৫ সালে দুইটি স্বতন্ত্র গবেষণায় প্রাণী আচরণ ও মানব-প্রাণীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রথমটি কুকুরের খেলনা প্রতি আকর্ষণ নিয়ে, আর দ্বিতীয়টি প্রাচীন সময়ে বিড়ালের মানব সমাজের সঙ্গে সমন্বয় সম্পর্কে। উভয়ই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এবং ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

কুকুরের খেলনা নিয়ে গবেষণায় ১০৫টি বাড়ির কুকুরকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নেওয়া হয়েছে। গবেষকরা তাদের প্রিয় খেলনা দুটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন: একটি উচ্চ শেলফে রাখা এবং অন্যটি বন্ধ বাক্সের ভিতরে লুকিয়ে। পরীক্ষার সময় কুকুরগুলো খেলনা না পেয়ে তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

প্রতিটি কুকুরের আচরণে ঘেউ ঘেউ করা, লাফিয়ে ওঠা এবং পা দিয়ে টোকা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে যখন খেলনা উচ্চে বা অপ্রাপ্য স্থানে ছিল, তখন তাদের অনুসন্ধানী প্রবৃত্তি বাড়ে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, এই প্রতিক্রিয়া কেবল বস্তুটির প্রতি নয়, বরং টাগ-অফ-ওয়ার বা ফেচের মতো খেলায় পাওয়া উত্তেজনার জন্য হতে পারে।

অধিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুকুরের এই উন্মাদনা মানবের আসক্তি-সদৃশ আচরণের সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, কুকুরের এই আচরণকে সরাসরি মানবের মাদক বা জুয়া আসক্তির সঙ্গে তুলনা করা যথাযথ নয়, কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে এখনও এ বিষয়ে সীমিত তথ্য রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, কুকুরের খেলনা প্রতি উন্মাদনা একটি স্বাভাবিক প্রেরণার অংশ, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক উদ্দীপনা বাড়ায়। তাই বাড়িতে খেলনা নিরাপদে রাখলে কুকুরের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অন্যদিকে, চীনের হান রাজবংশের সমাধিতে পাওয়া একটি ফসিলের মাধ্যমে বিড়ালের প্রাচীন মানবিক সম্পর্কের নতুন দিক প্রকাশ পেয়েছে। ঐ ফসিলটি প্রায় ১৬৮ খ্রিস্টপূর্বের এবং তাতে একটি লেপার্ড ক্যাটের মতো চেহারার বিড়াল দেখা যায়।

বৈজ্ঞানিক দল DNA বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, মানব বসতি অঞ্চলে প্রায় ৫,৪০০ বছর আগে থেকে ২০শ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত লেপার্ড ক্যাট (Prionailurus bengalensis) উপস্থিত ছিল। এই ফলাফল দেখায়, আধুনিক গৃহবিড়ালের পূর্বে অন্য একটি বন্য বিড়াল প্রজাতি মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান করেছিল।

লেপার্ড ক্যাটের এই প্রাচীন উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, তারা মানব সমাজের আশেপাশে খাবার সংগ্রহে সহায়তা করত এবং ধীরে ধীরে মানবের সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সমন্বয় গড়ে তুলেছিল। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা ‘কমেনসালিজম’ বলে উল্লেখ করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, লেপার্ড ক্যাটের হাড়ের DNA আধুনিক গৃহবিড়ালের তুলনায় ভিন্ন, ফলে গৃহবিড়াল (Felis catus) মানবের সঙ্গে সংযোগের সময়সীমা তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। তবে উভয় প্রজাতি মানব সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই দুই গবেষণার ফলাফল আমাদের প্রাণী আচরণ ও মানব-প্রাণীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের জটিলতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। কুকুরের খেলনা প্রতি উন্মাদনা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত উত্তেজনা থেকে বিরত থাকা জরুরি। একইসাথে, বিড়ালের প্রাচীন মানবিক সমন্বয় আমাদের জানায় যে গৃহপালিত প্রাণীর ইতিহাসে বন্য প্রজাতির অবদান কখনোই উপেক্ষা করা যায় না।

প্রযুক্তি ও জিন বিশ্লেষণের অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত গবেষণা সম্ভব হবে, যা প্রাণী ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবে।

আপনি কি আপনার পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলনা ব্যবহার করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চান? অথবা আপনার বাড়িতে প্রাচীন প্রাণীর কোনো ইতিহাসের চিহ্ন আছে কি? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবনা ভাগ করুন, যাতে আমরা একসাথে আরও সমৃদ্ধ তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments