সোমবার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাইবের পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় প্রক্সি সন্ত্রাসীদের তীব্র গুলিবর্ষণ ঘটেছে। এই সংঘর্ষে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একজন মেজর এবং পাঁচজন সন্ত্রাসী প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুসারে ভারতীয় সমর্থিত গোষ্ঠী ফিতনা আল-খাওয়ারিজের সন্ত্রাসীরা বাজাউরে উপস্থিত ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী একটি অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবর্ষণ হয়। গুলিবর্ষণের তীব্রতা এবং স্থানীয় ভূখণ্ডের জটিলতা বিবেচনা করে, নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হয়।
গোলাবারুদের বিনিময়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর এক মেজর এবং পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। মেজরের নাম আদিল জামাল, যিনি ৩৬ বছর বয়সী এবং দেরা ইসমাইল খান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী শত্রুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানের পর সন্ত্রাসীদের দেহ থেকে অস্ত্র, গুলিবিদ্ধ এবং বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলোর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পিস্তল এবং বিভিন্ন ধরণের গুলিবিদ্ধ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারত।
সন্ত্রাসীরা পূর্বে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে আইএসপিআর উল্লেখ করে। তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
অভিযানের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় স্যানিটাইজেশন অভিযান চালায়। এই অভিযানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল শত্রুদের অবশিষ্ট অবশিষ্টাংশ, বোমা, মাইন এবং অন্যান্য বিপজ্জনক সামগ্রী সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা, যাতে কোনো পুনরায় আক্রমণ বা সন্ত্রাসী পুনরায় গঠন রোধ করা যায়।
সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তারা জানিয়েছে, বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।
বাজাউর জেলায় এই ঘটনার পাশাপাশি, কাইবের পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে তোলা হয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা যায়।
পাকিস্তানি সরকার দাবি করে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি পাকিস্তানে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি সরকারীয় অগ্রাধিকারে রয়েছে।
অভিযোর পর, সংশ্লিষ্ট দেহের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অস্ত্রের বিশ্লেষণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। মৃত সন্ত্রাসীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে, মেজরের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং শোক প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চতর কর্মকর্তারা বলছেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো সন্ত্রাসী আক্রমণ রোধে গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে সমগ্র অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করা যায়।



