যুক্তরাষ্ট্র সোমবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের জন্য ইউএন মানবিক সহায়তায় ২ বিলিয়ন ডলার আরোপের ঘোষণা করবে। এই পরিমাণ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যেখানে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ২.৭ বিলিয়ন ডলার ছিল এবং ২০২৩‑২৪ সালে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে ১৪ বিলিয়নেরও বেশি ছিল।
ইউএন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বে সর্বোচ্চ মানবিক দানকারী দেশ, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার আর্থিক সহায়তা হ্রাস পেয়েছে। এই বছরের প্রতিশ্রুতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবিক সম্মেলনে প্রকাশিত হবে, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকরা একত্রিত হয়ে ভবিষ্যৎ তহবিলের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন।
ইউএনের মানবিক তহবিলের বার্ষিক আবেদন ২০২৬ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা ৮৭ মিলিয়ন অধিকতর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করবে। আবেদনটি গাজা, ইউক্রেন, সুদান, হাইতি এবং মিয়ানমারসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
গত কয়েক বছর ধরে ইউএনের আবেদন ও তহবিলের পরিমাণে বড়সড় হ্রাস দেখা গেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী সহায়তা বাজেটের ধারাবাহিক কাটছাঁটের প্রভাব রয়েছে, যা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে তীব্রভাবে শুরু হয়। তদুপরি, ইউএন মানবিক তহবিলের মোট চাহিদা ২৪০ মিলিয়ন মানুষে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সংঘাত, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের শিকাররা অন্তর্ভুক্ত।
ইউএন মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেটচারের মতে, আবেদনটি “জীবন-মরণের কঠিন সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে” তৈরি হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের এই অগ্রাধিকারগুলো বুঝে তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তহবিলের কার্যকারিতা বাড়াতে সংস্কার প্রয়োজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় প্রতিশ্রুতি এই সংস্কারকে সমর্থন করবে।
বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবদান হ্রাসের ফলে ইউএনের সামগ্রিক তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা দুর্বল হবে। ২০২৫ সালে ইউএনের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের আবেদন মাত্র ১২ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল, যা দশকের সর্বনিম্ন তহবিলের স্তর। ফলে শুধুমাত্র ৯৮ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা করা সম্ভব হয়েছে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন কম।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি যদিও পূর্বের স্তরের তুলনায় কম, তবু তা ইউএনের সর্বোচ্চ দাতা হিসেবে দেশের অবস্থান বজায় রাখে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, ভবিষ্যতে তহবিলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাজেট অগ্রাধিকারের পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হবে।
ইউএন মানবিক তহবিলের পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে ২০২৭ সালের আবেদন প্রস্তুত করা হবে, যেখানে তহবিলের লক্ষ্য ও কৌশল পুনরায় নির্ধারণ করা হবে। জেনেভা সম্মেলনের পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউএনের সাথে সমন্বয় করে তহবিলের ব্যবহারিকতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
অধিকন্তু, ইউএন মানবিক তহবিলের কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ও তহবিলের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে নতুন তহবিল পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু করার কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তহবিলের ব্যবহারিকতা বাড়বে এবং প্রয়োজনীয় অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তা প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, তবে তহবিলের পরিমাণের হ্রাস এবং ইউএনের বৃহত্তর চাহিদা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিক আর্থিক সমর্থন প্রয়োজন।



