ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আজ শাহবাগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে জানিয়েছেন, ধাকা-৮ আসনে শারিফ ওসমান হাদির মতো যোগ্য ও সক্ষম কোনো প্রার্থী না এলে তারা কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না। তিনি এই বক্তব্য শাহবাগের মোড়ে বিকেল ২:১৫টায় শুরু হওয়া প্রতিবন্ধকতা কর্মসূচির সময় সমাবেশে উপস্থিত ভিড়ের সামনে তুলে ধরেন।
প্রতিবন্ধকতা কর্মসূচি হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার দাবিতে গৃহীত হয়েছে। শুক্রবার থেকে প্রতিদিন শাহবাগের মূল চৌরাস্তা রোধ করা হচ্ছে এবং আজকের রোডব্লক ২:১৫টায় শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা হাদির হত্যার দায়ী অপরাধীদের দ্রুত আদালতে আনা এবং শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
জাবের স্পষ্ট করে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কোনো সহানুভূতি ভিত্তিক নির্বাচন লড়াইয়ে যুক্ত হতে চায় না এবং ‘সহানুভূতি রাজনীতি’ কখনোই অনুসরণ করবে না। তিনি সমাবেশে উপস্থিতদের আশ্বাস দেন যে, এই নীতি পরিবর্তন হবে না এবং মঞ্চের লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক চাপে ব্যবহার করা, পার্টি গঠন নয়।
শারিফ ওসমান হাদি পূর্বে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, মঞ্চের নাম ব্যবহার করে না। জাবের উল্লেখ করেন, হাদির ইচ্ছা ছিল নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে ভোটারদের সামনে তার প্রোগ্রাম উপস্থাপন করা, মঞ্চের ছদ্মবেশে নয়।
ইনকিলাব মঞ্চের স্বভাবকে তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন, কোনো ক্ষমতার জন্য লিজে দেওয়া বা কর্তৃত্বের উপর নির্ভরশীল হওয়া নয়। হাদির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠন করা, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, এটাই জাবেরের মতে মঞ্চের মূল লক্ষ্য।
বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ সব রাজনৈতিক দলকে হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবিতে জনগণের সঙ্গে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে জাবের সতর্ক করেন, যদি তারা এই মুহূর্তে ন্যায়বিচারের পক্ষে সুর না তুলতে পারে, তবে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণই তাদেরকে বাধ্য করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাদির নামকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়; ভোটাররা নেতাদের রেকর্ড ও কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে, আবেগের ভিত্তিতে নয়। এই সতর্কতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা, যে ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো ভোটার সমর্থন অর্জন করা কঠিন হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানকারী সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দলীয় মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তার এই পদবী পার্টির নির্বাচনী কৌশল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
শাহবাগে চলমান প্রতিবন্ধকতা কর্মসূচি এবং জাবেরের ‘সহানুভূতি রাজনীতি না করা’ ঘোষণার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি এখনো পূর্ণ না হওয়ায়, বিভিন্ন দল ও নাগরিক সমাজের চাপ বাড়তে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চের এই অবস্থান এবং অন্যান্য দলগুলোর প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী পরিবর্তন আনবে, তা সময়ই বলবে।



