22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমো. আবুল মুনসুর ফকির ত্রিশাল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

মো. আবুল মুনসুর ফকির ত্রিশাল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

মো. আবুল মুনসুর ফকির ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় নির্বাচনী অফিসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি নিজের পেশা হিসেবে “ভিক্ষুক” উল্লেখ করে ত্রিশাল-৭ (ত্রিশাল) আসনের জন্য প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।

ফকিরের জীবনযাপন দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা ও দান-সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। নিজের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল না থাকলেও, তিনি জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে আসার স্বপ্ন গড়ে তোলেন। পূর্বে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচেষ্টার সত্ত্বেও তিনি কোনো পদে সফল হননি, তবে এইবার তিনি সরাসরি মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রেজিস্টার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, অর্থাৎ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ত্রিশাল উপজেলায় মোট নয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর কাগজপত্র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা হয়েছে। এদের মধ্যে ফকির একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী, অন্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি ত্রিশাল-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেন।

ফকির ত্রিশাল উপজেলায় বৈলর ইউনিয়নের বড় পুকুরপাড়ে বসবাস করেন। তিনি পূর্বে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৩৭৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেননি। তবু তিনি এই অভিজ্ঞতাকে জনগণের অধিকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই রাজনৈতিক যাত্রা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বৈলর এলাকার বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, “কতজনকে যোগ্য ভেবে ভোট দিলাম, কিন্তু কেউই এলাকার বা জনগণের অবস্থার কোনো পরিবর্তন তো হলো না। এবার এই ফকিরকেই ভোট দেব।” তার এই মন্তব্য স্থানীয় ভোটারদের হতাশা ও নতুন আশা উভয়ই প্রকাশ করে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন গ্রহণের ছক অনুসারে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আবেদন জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী থেকে মো. আসাদুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন থেকে মো. ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, খেলাফত মজলিশ থেকে মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আব্দুল কুদ্দুস এবং জাতীয় পার্টি থেকে মো. জহিরুল ইসলাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর দলে ফকিরের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত ও মো. জয়নাল আবেদীনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের প্রত্যেকেরই স্থানীয় স্তরে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রোফাইল রয়েছে এবং তারা নির্বাচনে নিজস্ব ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

ত্রিশাল থেকে পূর্বে মোট বারোজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হলেও, এইবারের তালিকায় নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফকিরের মতো ভিক্ষুক পেশা উল্লেখ করে প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বাভাবিক একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই করবে এবং স্বীকৃত প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। যদি ফকিরের আবেদন অনুমোদিত হয়, তবে তিনি ত্রিশাল-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের সামনে তার প্রোগ্রাম ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা বাড়াতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments