সোমবার প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিসিএল) কার্যালয়ে গিয়ে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (SMW‑6) প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট ল্যান্ডিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। তিনি সেবা বিঘ্নমুক্ত ও মানসম্মত রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি ল্যান্ডিং স্টেশনের মূল স্থাপনাগুলি, যেমন অপটিক্যাল অ্যামপ্লিফায়ার, ব্রাঞ্চিং ইউনিট এবং পাওয়ার ফিডিং সিস্টেম, ঘুরে দেখেন। এসব সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রাফিকের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল দল তাকে বর্তমান অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পরিচালন ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। এটি তৃতীয় ক্যাবল প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী হিসেবে চালু হওয়া SMW‑6 এর সামগ্রিক রূপরেখা।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ক্যাবল ল্যান্ডিং পয়েন্টের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন, ক্যাবল স্থাপন, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রকল্পের দৃঢ়তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প অপরিহার্য। SMW‑6 বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেলিকম সংযোগ বাড়বে এবং ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
SMW‑6 ক্যাবল কক্সবাজার থেকে একদিকে সিঙ্গাপুর এবং অন্যদিকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই সরাসরি রুটটি বিদ্যমান আন্ডারসী রুটের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে।
কোর ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, ভারত, জেবুতি (দক্ষিণ কোরিয়া) এবং ফ্রান্সের স্বনামধন্য ডেটা সেন্টারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। ফলে ডেটা ট্রান্সমিশনের বিলম্ব কমে যাবে এবং স্থানীয় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত হবে।
ব্যান্ডউইথের এই বৃদ্ধি কেবল ভোক্তাদের ইন্টারনেট গতি বাড়াবে না, বরং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র যেমন আর্থিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ই‑কমার্সের কার্যকারিতা বাড়াবে। ফলে সমগ্র দেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বিএসসিসিএল কর্মীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ ধরনের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি সকল টেলিকম অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অবকাঠামো প্রদানকারীর সঙ্গে সমন্বয়, সম্পদ ভাগাভাগি এবং সর্বোত্তম অনুশীলন অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের সমাপ্তিতে তিনি থাই লংগান গাছের চারা রোপণ করেন, যা টেকসই উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই ছোট উদ্যোগটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ উদ্যোগের প্রতি সরকারের মনোভাবকে তুলে ধরে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসলাম হোসেন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যারা প্রকল্পের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক মান পূরণের জন্য তাদের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করেন।



