চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার তিন বছর পর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি দেখা গেছে। এই সময়ে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার বাজারে AI‑এর ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশাল বিনিয়োগের ফলে বহু AI স্টার্টআপ উদ্ভব হয়েছে। তবে বাস্তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও AI টুলের ব্যবহার থেকে স্পষ্ট লাভ অর্জনে সমস্যার সম্মুখীন।
অগাস্টে MIT পরিচালিত একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে যে ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান AI-তে বিনিয়োগের ফলে প্রত্যাশিত রিটার্ন পায়নি। এই ফলাফলটি দেখায় যে বর্তমান পর্যায়ে AI‑এর ব্যবসায়িক মূল্যায়ন এখনও সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে টেকক্রাঞ্চ ২৪টি এন্টারপ্রাইজ‑কেন্দ্রিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের মতামত সংগ্রহ করে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। অধিকাংশ ভিএসির মতে ২০২৬ সাল হবে সেই সময় যখন প্রতিষ্ঠানগুলো AI গ্রহণে বাস্তবিকভাবে অগ্রগতি করবে, এর থেকে মূল্য পাবে এবং বাজেট বাড়াবে। এই প্রত্যাশা গত তিন বছর ধরে ভিএসিরা প্রকাশ করে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
একটি ভিএসির প্রতিষ্ঠাতা পার্টনার উল্লেখ করেন যে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বুঝতে পারছে যে বড় ভাষা মডেল (LLM) সব সমস্যার সমাধান নয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ক্যাফে চেইন যদি AI ব্যবহার করে নিজস্ব CRM তৈরি করে, তা সবসময় সেরা পছন্দ নাও হতে পারে। তাই তারা কাস্টম মডেল, ফাইন‑টিউনিং, মূল্যায়ন, পর্যবেক্ষণ, অর্কেস্ট্রেশন এবং ডেটা সার্বভৌমত্বের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
আরেকটি ভিএসির পার্টনারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কিছু এন্টারপ্রাইজ AI কোম্পানি পণ্য বিক্রির বদলে AI পরামর্শ সেবায় রূপান্তরিত হবে। তারা প্রথমে গ্রাহক সাপোর্ট বা কোডিং সহায়তা মতো নির্দিষ্ট পণ্য দিয়ে শুরু করবে, তারপর নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ার দল গঠন করে গ্রাহকের বিভিন্ন কাজের জন্য AI সমাধান তৈরি করবে। এভাবে বিশেষায়িত পণ্য কোম্পানি সাধারণ AI বাস্তবায়নকারী হয়ে উঠবে।
একজন অন্য ভিএসির পার্টনার ভয়েস AI-কে ভবিষ্যতের প্রধান সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে মানুষের ও মেশিনের যোগাযোগ সবচেয়ে স্বাভাবিক, কার্যকর এবং প্রকাশশীল পদ্ধতি। এই ক্ষেত্রে বহু বছরের গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের ফলাফল এখন বাজারে প্রয়োগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই তিনটি দৃষ্টিকোণ একত্রে এন্টারপ্রাইজ AI‑এর পরবর্তী ধাপের রূপরেখা দেয়। কাস্টমাইজড মডেল ও ডেটা সুরক্ষার ওপর জোর, পণ্য থেকে সেবা মডেলে রূপান্তর এবং ভয়েস ইন্টারফেসের উত্থান—এগুলোই ২০২৬ সালে AI গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
ভিএসিরা আশা করছেন যে ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানগুলো AI‑কে কেবল পরীক্ষামূলক টুল নয়, বরং মূল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর ফলে AI‑এর জন্য বরাদ্দ বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ROI‑এর উন্নতি দেখা যাবে।
এদিকে, AI‑এর বাস্তবিক মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্ট মেট্রিক্স ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে। কাস্টম মডেল ডেপ্লয়মেন্টের সময় ডেটা গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ভয়েস AI ক্ষেত্রে, কণ্ঠস্বরের স্বীকৃতি ও প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণে অগ্রগতি গ্রাহক সেবা, হেলথকেয়ার এবং শিক্ষা সহ বিভিন্ন সেক্টরে নতুন ব্যবহারিক দৃশ্য তৈরি করবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মচারী ও গ্রাহকের সঙ্গে দ্রুত ও স্বাভাবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, ভিএসিরা ২০২৬ সালে এন্টারপ্রাইজ AI গ্রহণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন, যেখানে কাস্টম মডেল, AI পরামর্শ সেবা এবং ভয়েস ইন্টারফেসের উন্নয়ন প্রধান ভূমিকা পালন করবে। এই প্রবণতা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে AI‑এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক দক্ষতা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।



