ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) বাহরুল আলম আজ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সকল ফিল্ড অফিসারকে কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
আইজিপি জানান, নির্বাচনের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা দিয়ে দমন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অফিসারদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়মিত পেট্রোলের পাশাপাশি, চেকপয়েন্টে অনুসন্ধান অভিযান তীব্র করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এভাবে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আইজিপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যারা পুলিশের বৈধ কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আইন প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম না রাখার সংকল্প প্রকাশ পায়।
অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্পর্কেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ২০২৪ সালের ব্যাপক উত্থানকালে পুলিশ স্টেশন থেকে চুরি হওয়া বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্রের উদ্ধার বাড়াতে ফিল্ড অফিসারদের কাজ ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেন।
সরকারের ঘোষিত পুরস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে ব্যাপকভাবে জানাতে বিশেষ প্রচার চালানোর দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ফেরত পেলে পুরস্কার প্রদান করা হবে, এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
সভায় সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা সুপারিনটেনডেন্টরা ভার্চুয়ালভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা নভেম্বর ২০২৫ মাসের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
আলোচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতার আদেশের কার্যকরী অবস্থা, চলমান মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিষয়গুলোতে দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ.কে.এম. আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ডিআইজি (অপারেশন) মো. রেজাউল করিম এবং ডিআইজি (গোপন) মো. কামরুল আহসান। তাদের উপস্থিতি নির্দেশের বাস্তবায়ন ও তদারকি নিশ্চিত করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া যোগদান করেন। তাকে দলের মুখপাত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নতুন দিক যোগ করবে।



