ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা‑৮ নির্বাচনী আসনে কোনো প্রার্থী দাখিল না করার সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি শাহী বাগের অবরোধ কর্মসূচির মাঝখানে এই ঘোষণা দেন, যেখানে গত শুক্রবার থেকে ধারাবাহিক প্রতিবাদ চলছে। জাবেরের বক্তব্যের মূল কারণ হল শহীদ ওসমান হাদির মতো যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত মঞ্চের কোনো প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
আবদুল্লাহ আল জাবের স্পষ্ট করে বললেন, “কোনো সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) নিয়ে আমরা নির্বাচনে দাঁড়াইতে চাই না। ইনকিলাব মঞ্চ কোনো দিন সিমপ্যাথির রাজনীতি করবে না। এটার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে মঞ্চের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো।
মঞ্চের সদস্যসচিবের মতে, শহীদ ওসমান হাদি এখনও ইনকিলাব মঞ্চের কাঠামোর মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। হাদি একসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন, তবে মঞ্চের কিছু সদস্য তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। জাবের জোর দিয়ে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চ কোনো দিন ক্ষমতার কাছে নিজেকে বর্গা দেবে না। কোনো দিন ক্ষমতার মুখাপেক্ষী হবে না।”
ইনকিলাব মঞ্চকে তিনি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেন। মঞ্চের মূল কাজ হল সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, “ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন।”
হাদির হত্যার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা শাহী বাগে প্রতিবাদ শুরু করে, যেখানে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করা হয়। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিন শাহী বাগ মোড়ে অবরোধ বজায় রয়েছে, এবং আজকের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদকারীরা মঞ্চের অবস্থান পুনরায় জোরদার করেছে। জাবেরের মতে, “বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকবে। কিন্তু জনগণ আপনাদেরকে হাদি হত্যার বিচারের জন্য পাশে চায়। আপনারা যদি বিচারের জন্য সোচ্চার না হন, আগামী নির্বাচনে জনগণ আপনাদের সোচ্চার করে দেবে।”
আবদুল্লাহ আল জাবের সতর্ক করেন, যারা ক্ষমতার জন্য হাদির নাম ব্যবহার করে ভোট জিততে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, “জনগণ আবেগ দিয়ে নয়, আগের হিসাব ও বর্তমান হিসাব মিলিয়ে ভোট দেবে।” এভাবে মঞ্চের লক্ষ্য হল ভোটারদের যুক্তি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়।
মঞ্চের সদস্যসচিব আরও উল্লেখ করেন, হাদির হত্যাকারী বা তাদের সমর্থকদের প্রতি কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। “আপনি জানাজায় আসবেন, কিন্তু বহিষ্কার করবেন না—তা হতে পারে না,” জাবেরের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দলের ন্যায়বিচারবোধের অভাবকে সমালোচনা করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের বর্তমান অবরোধ কর্মসূচি এবং হাদির হত্যার বিচারের দাবি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জাবেরের মতে, “ইনকিলাব মঞ্চ আগামী দিনেও বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন হবে, তার রূপরেখা ঠিক করে দেবে।” মঞ্চের ভূমিকা এখন কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ নীতি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব বিস্তার করা।
এই ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মঞ্চের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, বিশেষ করে হাদির নাম ব্যবহার করে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা থামাতে হবে। জাবেরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, মঞ্চের মূল লক্ষ্য হল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার স্বার্থে রাজনৈতিক কৌশলকে বাধা দেওয়া।
শাহী বাগে অবরোধের ধারাবাহিকতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের এই নতুন অবস্থান দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে বর্তমান পর্যন্ত মঞ্চের স্পষ্ট বার্তা হল, “শহীদ ওসমান হাদির মতো যোগ্যতাসম্পন্ন না হয়ে ওঠা পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা‑৮ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।”



