পাবনা বেড়া উপজেলায় রোববার সন্ধ্যায় এক ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পেচাকোলা গ্রামে ঘটেছে। শিকারা ছিলেন রহিমা খাতুন, যিনি মৃত আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী এবং পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের মা ছিলেন। তিনি কবিরাজি পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং বাড়িতে একা বাস করতেন।
মাগরিবের আজানের সময় শিকারী গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে চিৎকার করে পাশের বাড়িতে দৌড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পাশের বাড়ির বাসিন্দা আ. হানিফের বাড়িতে পৌঁছে তিনি অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং প্রথমে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়দের মতে, গলায় কাটা এবং রক্তপাতের ফলে শিকারী দ্রুত রক্তক্ষয় করে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান।
পুলিশের ওয়েসি নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, গলায় কাটা এবং রক্তাক্ত অবস্থায় শিকারী বাড়ি থেকে চিৎকার করে পাশের বাড়িতে দৌড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বগুড়া হাসপাতালে রেফার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিকারীর গলার চেইন ও কানের দুল চুরি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে বলা হয়, অপরাধীরা সম্ভবত ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে এবং শিকারীকে লক্ষ্যবস্তু করে গলা কেটে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে।
পুলিশ সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে现场ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। গৃহহত্যা এবং চুরি সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রক্তের নমুনা এবং ভিডিও রেকর্ডিংসহ অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।
অপরাধের পেছনে কী প্রেরণা ছিল তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী শিকারীর স্বর্ণালংকারের মূল্যই মূল উদ্দেশ্য হতে পারে। শিকারীর গলায় কাটা এবং স্বর্ণের চুরি একসাথে ঘটায় এই অপরাধকে নৃশংসতা ও সম্পদ লুটের মিশ্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি এবং তদন্ত চলমান। শিকারীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত এবং পুলিশকে দ্রুত অপরাধী ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
বড়ো বয়সী শিকারীর মৃত্যুর ফলে স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। শিকারীর সন্তানরা এবং প্রতিবেশীরা শোকের সাথে সাথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অপরাধের তদন্তে গৃহহত্যা, চুরি এবং নৃশংসতার সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনগুলো শিকারীর পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ রোধে সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



