ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) আজ বিকাল ৫:৩০টায় এগ্রাগোন, ঢাকা‑এর সদর দফতরে জানিয়েছে যে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য প্রার্থীদের নামমাত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আর বাড়ানো হবে না। নির্বাচনের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, আর আজই শেষ দিন যেখানে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নামমাত্র কাগজপত্র জমা দিতে পারবে।
ইসিসি সেক্রেটারি আখতার আহমেদ এই ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্পষ্ট করে বলেন যে সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে আজ বিকেল ৫ টার আগে সমস্ত জমা দাখিল করা উচিত ছিল এবং তা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছে দিতে হতো।
আজকের শেষ সময়সীমা পূরণে অনেক দল ও প্রার্থী শেষ মুহূর্তে দৌড়ে জমা দিয়েছেন। তবে ইসিসি নিশ্চিত করেছে যে জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রম করা হলে তা গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হবে না।
আখতার আহমেদ জানান, “সময়সীমা বাড়ানো হবে না,” এবং এ বিষয়ে কোনো পুনর্বিবেচনা করা হবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে আজকের জমা দেওয়া নামমাত্রের মোট সংখ্যা রাত ১০টার দিকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে, যখন সব দফতর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন সম্পন্ন হবে।
নামমাত্র জমা শেষের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারবে। তারা প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, সমাবেশ ও বিতরণমূলক কার্যক্রমে মনোনিবেশ করবে।
বিপক্ষের কিছু নেতৃবৃন্দ সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা বলেন যে শেষ মুহূর্তে জমা দেওয়া প্রক্রিয়া কিছু দলকে অপ্রতুল সময়ে কাজ করতে বাধ্য করেছে। তবু ইসিসি এই উদ্বেগকে অস্বীকার করে বলেছে যে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল এবং তা অনুসরণ করা সকলের জন্য সমান।
ইসিসি আজকের ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে জমা দেওয়া নামমাত্রের তথ্য যাচাই, প্রার্থীর যোগ্যতা পরীক্ষা এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া পরবর্তী কয়েক দিন ধরে চলবে।
এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই ইসিসি চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে, যা ভোটারদের জন্য ভোটের পত্র প্রস্তুত করার ভিত্তি হবে। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের কাছে ভোটার কার্ড ও ভোটার তালিকা বিতরণ শুরু হবে।
ইসিসি উল্লেখ করেছেন যে রেফারেন্ডামের জন্যও একই সময়সীমা প্রযোজ্য, ফলে রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত প্রার্থীরাও আজকের শেষ সময়সীমা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছে। রেফারেন্ডাম ও সংসদীয় নির্বাচনের সমন্বিত সময়সূচি নিশ্চিত করে যে ভোটাররা একসাথে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের শেষ সময়সীমা পূরণে বেশ কিছু জেলা ও উপজেলায় জমা দেওয়ার পরিমাণে পার্থক্য দেখা গেছে, তবে ইসিসি সব অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ সমানভাবে চালিয়ে যাবে।
ইসিসি কর্মকর্তারা জানান যে জমা দেওয়া নামমাত্রের মোট সংখ্যা রাত ১০টার পরে প্রকাশ করা হবে, এবং তা নির্বাচনী কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপডেট করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শেষ প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ করবে।
নামমাত্র জমা শেষের পর ইসিসি দ্রুতই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করবে, যাতে ভোটারদের নাম ও ঠিকানা সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়। এই ধাপটি ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
ইসিসি এছাড়াও উল্লেখ করেছে যে কোনো অননুমোদিত পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সময়সীমা প্রদান করা হবে না, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা বজায় থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, ইসিসি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে এবং আগামী সপ্তাহে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, ভোটার কার্ড বিতরণ এবং ভোটারদের জন্য তথ্য প্রচার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।



